Bengal Liberty : শারদোৎসবের ছুটিতেও জরুরি মামলার শুনানি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপ্রার্থীদের জরুরি আইনি পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যে ২০২৬ সালের বার্ষিক পুজোর ছুটিতে বিশেষ ভ্যাকেশন বেঞ্চ গঠনের কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে আদালত। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ছুটির সময়ে নির্দিষ্ট দিনে ডিভিশন বেঞ্চ ও সিঙ্গল বেঞ্চে জরুরি মামলার শুনানি হবে।
সাধারণত দুর্গাপুজোর দীর্ঘ ছুটিতে আদালতের নিয়মিত কাজকর্ম বন্ধ থাকে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে বিচারপ্রার্থীদের আদালতের দ্বারস্থ হতে অসুবিধা না হয়, সে জন্য ছুটির বিভিন্ন পর্যায়ে বিচারপতিদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুজোর ছুটিকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করে শুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত ছুটির সময়েও নির্ধারিত দিনে ডিভিশন বেঞ্চ ও সিঙ্গল বেঞ্চে জরুরি মামলার শুনানি হবে। ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ডিভিশন বেঞ্চের দায়িত্বে থাকবেন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভিঠলরাও ঘুগে, বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদী এবং বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। সিঙ্গল বেঞ্চের দায়িত্ব সামলাবেন বিচারপতি পার্থ প্রতিম রায় এবং পরবর্তী পর্যায়ে বিচারপতি পার্থ সারথী সেন।

পুজোর ছুটিতে বিশেষ ভ্যাকেশন বেঞ্চ গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি
একাদশীর পর থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সময়সীমাতেও জরুরি মামলার শুনানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই পর্যায়ে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ, বিচারপতি রবি কিষাণ কাপুর, বিচারপতি সন্দীপ কুমার দে, বিচারপতি আর্য্যক দত্ত এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য-সহ একাধিক বিচারপতি দায়িত্ব সামলাবেন। কালীপুজো, দীপাবলি এবং ভাইফোঁটার ছুটিতেও বিশেষ বেঞ্চের মাধ্যমে জরুরি মামলার শুনানি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পর্যায়ে বিচারপতি কৌশিক চন্দ, বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী-সহ অন্য বিচারপতিরা দায়িত্ব পালন করবেন। কোন বেঞ্চ কোন দিন শুনানি করবে, তা আদালতের বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
আরও খবর
তবে ভ্যাকেশন বেঞ্চে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধও রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই বেঞ্চের সামনে শুধুমাত্র অত্যন্ত জরুরি মামলা এবং নিয়মিত আদালতের অনুমতি নিয়ে উত্থাপনযোগ্য বিষয়ই পেশ করা যাবে। নির্ধারিত বিচারদিবসের বাইরে কোনও অতি জরুরি মামলা দায়ের করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিচারপতির সচিব বা ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। এ জন্য বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের নম্বর ও ইমেল ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের মরশুমে জরুরি আইনি পরিষেবা চালু রাখার এই সিদ্ধান্তে বিচারপ্রার্থীদের সুবিধা হবে বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। বিশেষ করে, এমন কোনও মামলা যেখানে দ্রুত আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, সেখানে দীর্ঘ ছুটির কারণে শুনানির জন্য অপেক্ষা করার সমস্যা কিছুটা কমতে পারে। তবে ছুটির পুরো সময় আদালতের নিয়মিত কাজকর্ম চালু থাকছে না। নির্ধারিত দিনগুলিতে বিশেষ ভ্যাকেশন বেঞ্চের মাধ্যমে শুধুমাত্র জরুরি মামলার শুনানিই হবে। ফলে কোনও মামলা নিয়ে আদালতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত দিন, বেঞ্চের দায়িত্ব এবং মামলা উত্থাপনের নিয়ম দেখে নেওয়া জরুরি।


