Bengal Liberty : কথায় আছে, ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও কি তা-ই প্রযোজ্য? নইলে দিল্লিতে প্রতিবাদে সরব হয়েও কলকাতার মিছিলে দেখা গেল না কেন তাঁকে? গ্রেফতারির ভয়, নাকি অন্য কোনও কৌশল? এসআইআর-বিরোধী কর্মসূচিতে মমতার অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। পুলিশের হুঁশিয়ারির জেরেই কি গ্রেফতারির আশঙ্কায় পিছিয়ে গেলেন মমতা?
মঙ্গলবার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত তৃণমূলের ছাত্র-যুব সংগঠনের মিছিলকে ঘিরে এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই মিছিলের ডাক দিয়েছিল তৃণমূলের ছাত্র-যুব সংগঠন। মিছিলের নেতৃত্বে থাকার কথা ছিল কুণাল ঘোষ দোলা সেনের। পাশাপাশি, ছাত্র-যুবদের সঙ্গে মমতাও হাঁটতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। সেই মতো সোমবার রাতেই দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন তিনি।
কিন্তু মঙ্গলবার মিছিলের সময় রাজাবাজারে দেখা যায় তৃণমূল নেতা কুণালকে। একটি টেম্পোয় উঠে মাইকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তুলতে দেখা যায় তাঁকে। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। কিন্তু দেখা মেলেনি মমতার।
আরও খবর
এর আগে পুজোর মরসুমে মমতার মিছিলের কর্মসূচি ঘিরে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, উৎসবের মরসুমে কলকাতায় কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। রাজাবাজার থেকে মিছিল এক পা-ও এগোতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত মিছিল সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অনুমতি বা আনুষ্ঠানিক ইন্টিমেশন জমা পড়েনি। ফলে উৎসবের মরসুমে এমনিতেই রাস্তায় যান চলাচলের চাপ থাকে। তার উপর আগাম অনুমতি ছাড়া এই ধরনের কর্মসূচি হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।
প্রশ্ন উঠছে, পুলিশের কড়া অবস্থান এবং মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই কি গ্রেফতারির আশঙ্কায় কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করাই ছিল তাঁর পরিচিত রাজনৈতিক কৌশল। দিল্লিতে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর নিজের রাজ্যে একই ধরনের কর্মসূচিতে তাঁর অনুপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
দিল্লিতে বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন মমতা। সেই কর্মসূচিতে দিল্লি পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন তিনি। আইন অমান্যের অভিযোগে দিল্লির ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাতেই কি নিজের রাজ্যে এ বার পিছু হটলেন তিনি? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও মিছিলে তাঁর অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয়।


