Bengal Liberty : পুজোর মরশুমে সিপিএম সদর দফতরের সামনে ধর্মীয় কর্মসূচিতে মেতে উঠলেন সনাতনপন্থীরা। মঙ্গলবার, তৃতীয়ার দুপুরে আরপিআই-এর উদ্যোগে এজেসি বোস রোডে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে প্রবেশের মুখে চণ্ডীপাঠের আসর বসল। কয়েকজন মহিলা সেখানে চণ্ডীপাঠও করেন। বিজেপি নেতা থেকে বিধায়ক, সাধু-সন্তরা সেখানে উপস্থিত হন। ঠাকুর শ্রীশ্রী সমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী, তন্ত্র দেবাননন্দ মহারাজ, খনা মা, সত্যজিৎ দাস, সায়ন্তন বসু-রা চণ্ডীপাঠে হাজির হন ৷ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে চণ্ডীপাঠ। মাইক্রোফোনের দৌলতে সেই শব্দ পৌঁছে যায় বহু দূর পর্যন্ত। যদিও এনিয়ে আলিমুদ্দিনের কর্তাদের অবশ্য বিশেষ মাথাব্যথা নেই।
চণ্ডীপাঠ কীভাবে করতে হয় আমাদের কর্মীরাই শিখিয়ে দেবে’, খোঁচা সুজনের
সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী অবশ্য কটাক্ষের সুরে জানান, ‘‘আমাদের অনেক কর্মী আছেন, যাঁরা ওঁদের সঠিকভাবে চণ্ডীপাঠ করাটা শিখিয়ে দিতে পারবেন।”
জানা যাচ্ছে, সত্যজিৎ দাস নামে জনৈক বিশারদকে অতিথি করে এদিন আলিমুদ্দিনে চণ্ডীপাঠের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে সনাতনপন্থীরা এই আয়োজন করেছেন বলেই ধারণা।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে মুজাফ্ফর আহমেদ ভবন সিপিএমের সদর দপ্তর, অন্যান্য বামপন্থী দলগুলিও মাঝে মধ্যেই এখানে আসে দলীয় কাজের জন্য। সেই পার্টি অফিসের অদূরেই এই চণ্ডীপাঠের আয়োজন করা ‘নাস্তিক’ বামেদের বিশেষ বার্তা দেওয়া বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এ বিষয়ে চণ্ডীপাঠে অংশগ্রহণকারী এক ব্যক্তি বলেন, ‘‘এই বামপন্থীরা সবসময় সনাতন ধর্মকে অপমান করে এসেছে। আমরা তাই ওদের পার্টি অফিসের সামনেই আজ নিজেদের ধর্মপালন করলাম। এখন আর কেউ বাধা দিতে পারবে না।”
এদিকে বিষয়টিকে হালকাভাবেই গ্রহণ করেছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘‘অসভ্যতা ও দুর্বলতার লক্ষণ। ওরা চণ্ডীপাঠ শোনানোর লোক পাচ্ছে না। তাই আমাদের কার্যালয়ের সামনে এসে অসভ্যতা করছে। আর চণ্ডীপাঠ কীভাবে করতে হয় তা আগে ভালো করে শিখে আসুন। নাহলে আমাদের কর্মীরাই শিখিয়ে দেবে।” এমনটাই ব্যাঙ্গাত্বক মন্তব্য করেছেন তিনি।


