Bengal Liberty : যন্তর মন্তরে আর ধর্না-বিক্ষোভ করা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুপারিশে দিল্লি পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস দিয়ে জবাব তলব করল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বার্তা, কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হলে আইন নিজের পথেই চলবে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলনের সাক্ষী যন্তর মন্তর থেকে বিক্ষোভের অধিকার এ ভাবে সরিয়ে নেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নেই এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে।
যন্তর মন্তর থেকে বিক্ষোভ সরানোর সিদ্ধান্ত, কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যন্তর মন্তরকে ধর্নাস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ওই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, আগে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য শোনা হবে। তাদের জবাবে সন্তুষ্ট না হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের কথায়, কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশের উদ্দেশ্যে নোটিস জারি করে তাদের জবাব তলব করেছেন। তিনি আরও বলেন, “তাদের উত্তর দিতে দিন। যদি সেই জবাবে আমরা সন্তুষ্ট না হই, আইন নিজের পথে চলবে।”
গণআন্দোলনের পরিচিত ঠিকানা ছিল যন্তর মন্তর
দীর্ঘদিন ধরেই যন্তর মন্তর দেশের বিভিন্ন প্রতিবাদ ও গণআন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সম্প্রতি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনের দিকে এগোনোর ঘটনার পর বিকল্প ধর্নাস্থল খোঁজার উদ্যোগ শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে দিল্লি পুলিশ জানায়, একটি কমিটি গঠন করে রাজধানীর তিনটি জায়গাকে বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
আরও খবর
বিকল্প ধর্নাস্থলগুলির দূরত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যন্তর মন্তর থেকে রামলীলা ময়দান প্রায় ৩.২ কিলোমিটার দূরে হলেও নবরাত্রির উৎসবের কারণে সেখানে আপাতত বিক্ষোভ সম্ভব নয়। বুরারি মাঠের দূরত্ব প্রায় ২১ কিলোমিটার, আর পূর্ব দিল্লির সিবিডি এলাকার মাঠটি প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে। ফলে বিকল্প জায়গায় আন্দোলন কতটা সুবিধাজনক হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এখন সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের জবাবের দিকেই নজর।


