Bengal liberty : এবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে যৌন কর্মীদের শ্রমিকে মর্যাদা প্রদানে আর্জি জানালেন হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী। একই সঙ্গে এই আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন তিনি। পুজোর মুখে যৌন কর্মীদের বৃহত্তম সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির দুর্গোৎসবে উপস্থিত থেকে সদস্যদের হাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরের রিসিভ কপি তুলে দেন চন্দ্রচূড়বাবু।
বৃহত্তম সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির জন্মদিনে যৌন কর্মীদের শ্রমিকের মর্যাদা প্রদানের জন্য আন্তরিক ভাবে সচেষ্ট হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী । দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিফ সেক্রেটারির সাথে দেখা করে যৌণ কর্মীদেরকে শ্রমিকের মর্যাদা প্রদানের জন্য আর্জি জানাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি । সেইমতো এবার দুর্বারের পূজার উদ্বোধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ওনাদের সচিব বিশাখা লস্করের হাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর চিঠির রিসিভ কপি তুলে দিলেন হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী। এই প্রসঙ্গে চন্দ্রচূড় বাবু বলেন, ‘যে স্থানের মাটি দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি হয় সেই স্থানের নারীরা সমাজে কখনোই ব্রাত্য হতে পারেন না। তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন । সেই সঙ্গে আমাদেরও সামাজিক ও মানবিক ভাবে উদার হতে হবে। একই জল মাটি ও আবহাওয়ায় বড় হয়েও কেন যৌণ কর্মীদের সন্তানরা মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে না?
কে বলতে পারে তাদের মধ্যে থেকেই উঠে আসতে পারে ভারতবর্ষের আগামী ভবিষ্যত। শুধু আমাদেরকে উদার মনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। যৌন কর্মীরা যাতে এইডস বা অন্যান্য যৌণ রোগ সংক্রমণ থেকে তাদের সুরক্ষিত থাকেন সেদিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে কারণ তাঁদের সুস্থতার সাথে সমাজের সুস্থতাও অঙ্গাঙ্গী ভাবে যুক্ত। আর তাঁরা শ্রমিকের মর্যাদা পেলে ভারত সরকারের শ্রম মন্ত্রক ও শ্রম আইনের আওতায় এসে অনেক সুযোগ সুবিধা পাবেন । এই সামাজিক আন্দোলনে যৌন কর্মীদেরও আন্তরিক ভাবে আমাদের পাশে থাকতে হবে কারণ তারাও দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি করে আসছেন।’
আরও খবর

একইসঙ্গে বিগত দিনের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, ‘অতীতে এস.আই.আর. এর সময় আমরা দিল্লি গিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুজি, প্রধানমন্ত্রী দফতর ও ভারতের নির্বাচন কমিশনের সাথে সাক্ষাৎ করে যৌন কর্মীদের জন্য আলাদা ক্যাম্প স্পেশাল ক্যাম্প করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম । আগামী দিনেও হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আমাদের এই ঐতিহাসিক মুভমেন্টে সামিল হতে বলছি। দীর্ঘদিন ধরেই যৌন কর্মীদের শুধু আশা দিয়ে গিয়েছে কিছু সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কিন্তু আজও তারা শ্রমিকের মর্যাদা পাননি । আমরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে লিখিত অনুরোধ করার পাশাপাশি আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যপাল শআর.এন.রবির সঙ্গে দেখা করে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত যৌণপল্লীর মহিলাদের শ্রমিকের মর্যাদা প্রদানের জন্য অনুরোধ করব।


