Bengal Liberty : চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বড় পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের। দুর্ঘটনার তদন্তে সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুজো কমিটির সম্পাদক ও সহ-সভাপতি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৫ ও ১১০ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, বাঁশের কাঠামো নির্মাণ এবং বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, কোথায় গাফিলতি ছিল, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন পুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা এবং সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে। এ ছাড়াও মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে থাকা বিপ্লব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ভিআইপি পাস পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কৌশিক সাহা এবং পিন্টু দে-ও ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন। পাশাপাশি, বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভিড় নিয়ন্ত্রণে গাফিলতি? তদন্তে একাধিক দিক
চোরবাগান মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন দর্শনার্থীর মৃত্যুর পর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো হয়েছিল, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও খবর

পাশাপাশি, মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। BNS-এর ১০৫ ও ১১০ ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় এই ঘটনায় দায় নির্ধারণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি এবং প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
দুর্ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। উৎসবের মরশুমে বিপুল জনসমাগমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুজো উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতি কতটা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলেছেন। এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, দুর্ঘটনার পিছনে ঠিক কী কারণ ছিল এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ, কাঠামো নির্মাণ কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি এই মৃত্যুমিছিলের জন্য দায়ী কি না, তা নির্ধারণ করা।


