Bengal Liberty : দশেরার উৎসবে এ বার রাজনীতির ছায়া! রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদের পাশাপাশি দিল্লির প্রীতমপুরার রামলীলায় পুড়তে চলেছে ৩০ ফুটের বিশালাকার আরশোলার কুশপুতুল। শ্রী কেশব রামলীলা কমিটির এই অভিনব উদ্যোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলনের আবহে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। যদিও আয়োজকদের দাবি, এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তাঁদের বক্তব্য, আরশোলা অপরিচ্ছন্নতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রতীক। স্বচ্ছতার বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ।
স্বচ্ছতার বার্তা, নাকি রাজনৈতিক কটাক্ষ? কী বলছে আয়োজক কমিটি?
প্রতি বছর দশেরায় রামলীলার আয়োজন করে শ্রী কেশব রামলীলা কমিটি। এ বারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদের পাশাপাশি ৩০ ফুটের আরশোলার কুশপুতুল পোড়ানোর সিদ্ধান্তই এ বারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। বাড়িঘর, এলাকা ও সমাজ থেকে নোংরা-আবর্জনা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে চায় কমিটি। এই উদ্যোগকে ‘স্বচ্ছ ভারত’ ও ‘স্বচ্ছ দিল্লি’ অভিযানের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন উদ্যোক্তারা।
কমিটির সভাপতি তথা মডেল টাউন কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অশোক গোয়েল দেবরহার দাবি, এই উদ্যোগের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর বক্তব্য, সামাজিক কুপ্রথা বা অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে অতিরিক্ত কুশপুতুল পোড়ানোর রীতি রামলীলায় নতুন নয়। এর আগে নকশালবাদ ও সন্ত্রাসবাদের প্রতীকী কুশপুতুলও পোড়ানো হয়েছে। এ বার রাবণের সেনাবাহিনীর অসুরদের তালিকায় জায়গা পাচ্ছে আরশোলাও। এর মাধ্যমে অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয়ের বার্তা আরও জোরালো করতে চান তাঁরা।
আরও খবর
CJP-র আন্দোলনের আবহেই আরশোলা বিতর্ক!
উল্লেখ্য, দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP। জুন মাস থেকে সংগঠনটি পথে নেমে আন্দোলন শুরু করে। নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চলে। গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের ডাক দেয় CJP। সেই অভিযান ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েক দিন পর ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। তবে সেখানেই থেমে থাকেনি CJP-র আন্দোলন। এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করেছে সংগঠনটি।
এই আবহেই দশেরার রামলীলায় ৩০ ফুটের আরশোলার কুশপুতুল পোড়ানোর সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ফলে আয়োজকেরা স্বচ্ছতার বার্তা দেওয়ার কথা বললেও, CJP-র আন্দোলনের সঙ্গে এই উদ্যোগের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আরশোলা নিছকই অপরিচ্ছন্নতার প্রতীক, নাকি এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে কোনও রাজনৈতিক ইঙ্গিত-সেই জল্পনাই এ বার দশেরার উৎসবকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে আয়োজকদের বক্তব্য স্পষ্ট, এই উদ্যোগের সঙ্গে CJP-র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই।


