Mamata Banerjee
আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আশুতোষ-সৌরভের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি মমতার,‘গণতন্ত্রে বিশ্বাস থাকলে অবিলম্বে ছাড়ুন’

আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, এর পিছনে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিবাদীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “আশুতোষ এবং সৌরভের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর মরিয়া উদ্দেশ্য আমি বুঝতে পারছি। গণতন্ত্রের উপর আঘাত হানার জন্য প্রতিদিন এই বিপজ্জনক ভাইরাসটি ব্যবহার করা হচ্ছে।” নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের উপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘জেন জি’-র ছেলেমেয়েদের উপর এই অত্যাচার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে ক্ষমতাসীন নেতৃত্বকে সতর্ক করে তাঁর বক্তব্য, আজ যাঁরা ক্ষমতায় রয়েছেন, তাঁরা চিরকাল ক্ষমতায় থাকবেন না।

শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনা নয়, বরং গোটা দেশেই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর দমনের প্রবণতা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায়, কলকাতা থেকে দিল্লি, এমনকি মুম্বই-সর্বত্রই অত্যাচারের মাত্রা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কার অভিজ্ঞতার তুলনা টেনে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও অত্যাচারের মুখে পড়েছিলেন। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতি ‘রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস’ এবং পুলিশের মদতে চলা অত্যাচারের উদাহরণ। ক্ষমতার জোরে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ থামানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিবৃতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের ভূমিকার উপরেই তিনি আস্থা রাখছেন। তাঁর মতে, দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় মানুষ যখন দৃঢ়ভাবে পথে নামবেন, তখন ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের অহংকার ভাঙবে। তিনি দাবি করেছেন, জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদই শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের জয় নিশ্চিত করবে। শাসক শিবিরের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে থাকা রাজনীতিকদের মনে রাখা উচিত, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। তাঁর বক্তব্য, মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে কিংবা পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিবাদকে স্তব্ধ করে দীর্ঘদিন শাসন চালানো সম্ভব নয়।

বিবৃতির শেষ পর্বে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের মুক্তির দাবিতে সরাসরি সরব হন তিনি। মমতার স্পষ্ট বার্তা, গণতন্ত্রের প্রতি বিন্দুমাত্র আস্থা থাকলে ধৃত দু’জনকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

Dipsikha Mandal
দীপশিখা মণ্ডল

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে ২০২৩ সালে সাংবাদিকতা জগতে প্রবেশ। ETV ভারত, এক্সপ্রেস নিউজ ঘুরে এখন বেঙ্গল লিবার্টি-তে। বিনোদন, দেশ দুনিয়ার খবরের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। ঝোঁক বেশি রাজ্য এবং জেলার খবরে। ফটোগ্রাফিতেও সময় কাটে। অসময়ের সঙ্গী বই আর সিনেমা। নেশার বস্তু কফি, প্রকৃতি আর কবিতা।