Bengal Liberty : পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় বাড়িতে ঢুকে এক তৃণমূল কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপির প্রাক্তন শহর সম্পাদক প্রসেনজিৎ মোদকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ভোররাতে ওই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের সামনেই তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকি, আক্রান্ত ব্যক্তিকে পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার দৃশ্যও ধরা পড়েছে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে। এই ঘটনায় বিজেপি নেতা প্রসেনজিৎকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তের আচরণ এবং তিনি আদৌ বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা নিয়ে কাটোয়ার বিজেপি নেতৃত্বের অন্দরেই ভিন্ন মত সামনে এসেছে।
অভিযোগ, গত ১৮ অক্টোবর ভোর চারটে নাগাদ কয়েক জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে ওই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকেন প্রসেনজিৎ। বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি চলে মারধর। পরিবারের সদস্যদের সামনেই আক্রান্ত হন ওই তৃণমূল কর্মী। তাঁকে মারধরের সময় তাঁর স্ত্রীকেও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আক্রান্ত ব্যক্তিকে পা ধরে ক্ষমা চাইতে বলা হচ্ছে। সেখানে প্রসেনজিৎকে বলতে শোনা যায়, “কালকের মধ্যে টাকা দিবি।” তৃণমূল কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রসেনজিৎকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই প্রসেনজিতের সঙ্গে দলের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির কাটোয়া নগর সাংগঠনিক সভাপতি সুমন দেবনাথের দাবি, প্রসেনজিৎ একসময় দলের কর্মী ছিলেন এবং পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছিলেন। তবে বর্তমানে তাঁর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সভানেত্রী সীমা ভট্টাচার্য অভিযুক্তের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর দাবি, ওই তৃণমূল কর্মী প্রসেনজিতের স্ত্রীর গায়ে হাত দিয়েছিলেন এবং টাকা কেড়ে নিয়েছিলেন। বাড়ি তৈরির সময় পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। বিজেপি নেতৃত্বের এই দুই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে দলের অন্দরের মতপার্থক্য সামনে এসেছে।
আরও খবর
অন্যদিকে, আদালতে যাওয়ার সময় প্রসেনজিৎ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, দলেরই কিছু লোক তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাটোয়ার বিজেপির অন্দরে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।


