Bengal Liberty : চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে যান হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর প্রধান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিপি) জাভেদ শামিম, গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান এবং হোমিসাইড শাখার আধিকারিকসহ একাধিক পুলিশকর্তা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তদন্তের অগ্রগতি ও একাধিক বিষয় নিয়ে মুখ খোলেন সিটের প্রধান।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জানান, দুর্ঘটনার দিন মণ্ডপের এক্সিট গেটের মুখেই বিপর্যয় ঘটেছিল। নির্গমনপথের সামনে ঠিক কী কারণে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাননি তিনি। তবে তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় মণ্ডপে জরুরি নির্গমনপথ ছিল। সেই পথ কেন বন্ধ ছিল, কেন তা খোলা হয়নি এবং কার নির্দেশে সেটি বন্ধ রাখা হয়েছিল, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।
সিটের প্রধান আরও জানান, এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ, পুরসভা, পুজো উদ্যোক্তা এবং আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মণ্ডপের বাইরে সিসিটিভি নজরদারির কথা লেখা থাকলেও ভিতরে পর্যাপ্ত ক্যামেরা ছিল কি না, সাংবাদিকরা সেই প্রশ্নও তোলেন। উত্তরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে, তবে রিপোর্টের তথ্য কতটা সঠিক, তা আরও যাচাই করা হবে। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ধাপে ধাপে সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে এগোবে সিট।
আরও খবর
তদন্তের সময়সীমা নিয়েও মুখ খোলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, হাতে প্রায় তিন মাস সময় রয়েছে। এর মধ্যেই দ্রুত তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি খতিয়ে দেখা হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করাই তদন্তকারী দলের অন্যতম লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, এদিন সকালেই সিটের ছয় সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে তাঁরা দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। এদিকে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিন্টুকে, দুর্ঘটনার দিন মণ্ডপে ঘোষণার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। কেন তিনি বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করেছিলেন এবং কার নির্দেশে তা করেছিলেন, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটের প্রধান।
চোরবাগান কাণ্ডে ঠিক কী কারণে এত বড় বিপর্যয় ঘটল, জরুরি নির্গমনপথ বন্ধ থাকার পিছনে কারও গাফিলতি ছিল কি না এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা কী ছিল, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বিশেষ তদন্তকারী দল। ১৯ জনের প্রাণহানির প্রকৃত কারণ সামনে আনতে সিটের তদন্ত কত দ্রুত এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।


