Bengal Liberty : আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ বহুতল ভবন। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, নাইরোবির ইস্টলেই (Eastleigh) এলাকায় আচমকাই ভেঙে পড়ে ১২ তলা নির্মীয়মাণ ভবনটি। মুহূর্তের মধ্যে ধুলোর মেঘে ঢেকে যায় ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা। ধ্বংসস্তূপের নীচে একাধিক মানুষ আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে শুরু হয়েছে জোরকদমে তল্লাশি। এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে নাইরোবির নির্মাণকাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ধ্বংসস্তূপের নীচে নিখোঁজ ৭, চলছে উদ্ধারকাজ
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনটি ভেঙে পড়ার সময় সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল। তবে ভবনটির নিচতলা ও বেসমেন্টে বেশ কয়েকটি দোকান চালু ছিল বলে জানা গিয়েছে। কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেনের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দোকানগুলির সঙ্গে যুক্ত প্রায় সাত জনের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি।
অন্যদিকে, নির্মাণকাজে যুক্ত ৬৭ জন কর্মীর মধ্যে ৬৬ জন অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন। আহত হয়েছেন এক জন। ধ্বংসস্তূপ থেকে ইতিমধ্যেই এক মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীরা।
আরও খবর
উদ্ধারকাজে বাধা, অক্সিজেন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এক্সক্যাভেটরের কাজ। ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় আটকে থাকা ব্যক্তিদের শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, আশপাশে একাধিক বহুতল ভবন থাকায় উদ্ধারকারীদের পক্ষে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
নির্মাণের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
এই দুর্ঘটনার পরেই নাইরোবির নির্মাণবিধি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নাইরোবির গভর্নর জনসন সাকাজা জানিয়েছেন, ভবনটির কাছে প্রয়োজনীয় অকুপেশন সার্টিফিকেট ছিল না। অর্থাৎ, ভবনটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের অভাব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, কেনিয়ার ন্যাশনাল বিল্ডিং ইনস্পেক্টরেটের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর দেশজুড়ে যে ভবনগুলির নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল, তার ৮৭ শতাংশই নির্ধারিত মান পূরণ করতে পারেনি অথবা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। ফলে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণবিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই মুহূর্তে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা। তবে নাইরোবির এই দুর্ঘটনা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, নির্মাণকাজের দ্রুত প্রসারের পাশাপাশি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কতটা জরুরি।
ধ্


