Bengal Liberty : চলতি ইন্ডিয়ান সুপার লিগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও চেন্নাইয়িন এফসি। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সমর্থন মোহনবাগানের কাছে অতিরিক্ত সুবিধার মতো কাজ করবে, এমনটাই মনে করেছিল অনেকে। কিন্তু খেলার পরিসংখ্যান ও ম্যাচের ফলাফল যেন একে অপরের সঙ্গে একেবারেই মিলছে না। স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে মোহনবাগান ১, চেন্নাইয়িন এফসি ০। কিন্তু গোটা ম্যাচের খেলা ও পরিসংখ্যান দেখে এই জয়কে সত্যিকারের আধিপত্যের প্রতিফলন বলার উপায় নেই।
কোনওমতে মানভীরের গোলে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মোহনবাগান। গোটা ম্যাচেই অতিরিক্ত রক্ষণশীল ফুটবল খেলতে গিয়ে যেন নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই ভুলে গিয়েছিলেন নাসিরি, সেলদনরা। অন্যদিকে, সবুজ-মেরুনের থেকেও আক্রমণ ও মাঝমাঠে বেশ দাপট দেখিয়ে ফুটবল খেলেও গোলের বিচারে পরাজিত হয়েছে চেন্নাই। এক কথায়, মানভীরের গোলে পাওয়া এই জয় কিছুটা হলেও মান-সম্মান বাঁচিয়ে পরের ম্যাচে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামার সুযোগ করে দেবে সবুজ-মেরুন শিবিরকে।
খেলার শুরু থেকেই মোহনবাগান ম্যাচের সঙ্গে একেবারেই মানিয়ে নিতে পারছিল না। সমর্থকদের চিৎকার, উচ্ছ্বাস—কিছুই যেন কাজে লাগাতে পারছিল না তারা। উল্টোদিকে, চেন্নাই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছে এবং প্রতিটি বিভাগেই এগিয়ে থেকে দাপট দেখিয়েছে। তবে গোলের মুখ খুলতে পারেনি কোনও দলই। গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
আরও খবর
বিরতির পরেও খেলার চিত্রটা খুব একটা বদলায়নি। প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আধিপত্য দেখিয়েছে চেন্নাই। পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল তারা।
তবে একটা জায়গাতেই পিছিয়ে পড়েছিল চেন্নাই। অধিকাংশ সময় ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করলেও গোলের মুখ খুলতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে ৮৫ মিনিটের মাথায় মানভীরের জয়সূচক গোলে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে হার না-মানা মোহনবাগান। শেষ অবধি লড়াই করলেও রেফারির বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই ১-০ স্কোরলাইনে কোনওমতে জয়ী হয় মোহনবাগান।
ম্যাচে জয়ের পরেও নানান প্রশ্নে জর্জরিত মোহনবাগান শিবির। আক্রমণের কোনও লক্ষণ নেই, শুধুই বলের দিকে চোখ রেখেও বিশেষ কোনও সুবিধা হয়নি। ৩১ অক্টোবর শক্তিশালী পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে নামার আগে এই ভুলগুলো শুধরে না নিলে আবারও হারের মুখ দেখতে হতে পারে লিগ-ফেভারিট মোহনবাগানকে। এবার দেখার, জয়ের ধারা কী অব্যাহত থাকে? কারণ, আইএসএলে জয়ের ধারা বজায় রাখাটাই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ, এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়ামহল।


