Bengal Liberty : নভেম্বরে হচ্ছে না কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের সাতটি পুরসভার নির্বাচন। পুরভোটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় পিছিয়ে যাচ্ছে ভোটপ্রক্রিয়া। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভোট হতে পারে। তবে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
আগে পরিকল্পনা ছিল, আগামী ২৮ বা ২৯ নভেম্বর সাতটি পুরসভায় ভোট হবে। সেই তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং। কিন্তু ভোটের আগে খসড়া ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কারণে ভোটের প্রস্তুতিতে বাড়তি সময় লাগছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৯। এর জেরে বদলেছে বহু ভোটারের ওয়ার্ড এবং একাধিক বুথের বিন্যাসও। সেই পরিবর্তন অনুযায়ী নতুন করে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতার প্রায় সাড়ে চার হাজার বুথের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১০০টি বুথের পুনর্বিন্যাসের কাজ হয়েছে।
আরও খবর
খসড়া ভোটার তালিকা তৈরির জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশন প্রথমে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে ১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার-তথ্য চেয়েছিল। সেই তথ্য হাতে এলেও তালিকা চূড়ান্ত করার কাজে সময় লাগছে। তার উপর বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) সেনসাসের কাজে ব্যস্ততা এবং কর্মীর অভাবও সমস্যার অন্যতম কারণ। ফলে ৩ নভেম্বরের মধ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে দু’বার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
এ বার আরও বেশি ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার-তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সেই তথ্য হাতে পেতেও সময় লাগবে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলিকে অভিযোগ জানানোর জন্য অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন সময় দিতে হয়। তার পরেই ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পালা।
ফলে আগামী ২ নভেম্বর নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। যদিও ভোটের জন্য পর্যাপ্ত ইভিএম কমিশনের হাতে রয়েছে। মঙ্গলবার কলকাতা পুরভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক। তবে বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, বিষয়টি যখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায়, তখন সর্বদলীয় বৈঠক অর্থহীন। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বৈঠক করা সময়ের অপচয় ছাড়া কিছু নয়।


