Bengal Liberty : উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন করে খুনের অভিযোগে ধৃত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২৩ বছরের ওই যুবকের মৃত্যু হয় বলে দাবি পুলিশের। তবে পুলিশের এই দাবি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)। সংগঠনের অভিযোগ, এটি প্রকৃত এনকাউন্টার নয়, বরং সংঘর্ষের গল্প সাজিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অবিলম্বে হাইকোর্টের কোনও বিচারপতিকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করানোর দাবি জানিয়েছে তারা।
‘এনকাউন্টারের গল্প সাজানো হয়েছে’, অভিযোগ এপিডিআরের
প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এপিডিআরের সহ-সভাপতি রঞ্জিত শূর। এক বিবৃতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাত ১২টার সময় বন্দিকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণে যাওয়া এবং সেই সময় তার হাত খোলা রাখা অত্যন্ত সন্দেহজনক। দিনের আলোতেও পুলিশ বন্দিদের কোমরে দড়ি বেঁধে বা হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়। সেখানে রাতে হাত খোলা রাখার উদ্দেশ্য কী ছিল, সেই প্রশ্ন তুলেছে সংগঠন।
এপিডিআরের আরও প্রশ্ন, প্রহ্লাদ পালানোর চেষ্টা করলে তাকে পায়ে বা কোমরের নীচে গুলি না করে কেন প্রাণঘাতী গুলি চালানো হল? কী ভাবে পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব হল, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে সংগঠন। তাদের দাবি, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পর্যালোচনা করে পুলিশের বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না। বারুইপুরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এপিডিআরের অভিযোগ, গাইঘাটাতেও এনকাউন্টারের নামে ভুয়ো সংঘর্ষের আড়ালে ওই যুবককে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
আরও খবর
রঞ্জিত শূর আরও দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ হেফাজতে বন্দিমৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে। বারুইপুরের পাশাপাশি কান্দি, হালিশহর-বীজপুর, ক্যানিং ও দুবরাজপুরের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, এই সব ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও আইনের শাসন রক্ষায় রাজ্যবাসীকে গণপ্রতিবাদে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠন।
কী ঘটেছিল গাইঘাটায়?
পুলিশ সূত্রে খবর, দু’দিন আগে গাইঘাটায় এক স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন করে খুনের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় নিহত ছাত্রীর আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোররাতে তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, সেই সময় প্রহ্লাদ এক পুলিশকর্মীর রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রহ্লাদের দেহ চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।


