Bengal Liberty : সরকার বদলের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বেহালায় প্রেমিক, তাঁর বন্ধু ও বাবাকে নগ্ন করে ঘোরানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ থেকে শুরু করে গাইঘাটায় ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তের এনকাউন্টার এবং এর আগে বারুইপুরে একই ধরনের ঘটনায় অভিযুক্তের এনকাউন্টার—পরপর তিনটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সঙ্গে এই পদক্ষেপগুলিকে মিলিয়ে দেখছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে পুলিশের সক্রিয়তার পাশাপাশি আইন মেনে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বেহালায় এক যুবক, তাঁর বন্ধু ও বাবাকে নগ্ন করে এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে আগেই ক্ষোভ ছড়িয়েছিল। অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তির জেরে ২৫ অক্টোবর ওই তিনজনকে মারধর করে বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালে তদন্তে নামে পুলিশ। যুবতীর মামাকে প্রথমে উত্তেজিত জনতা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে যুবতীর বাবা-মাকেও গ্রেফতার করা হয় বলে খবর। মঙ্গলবার অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে অপরাধ পুনর্নির্মাণের সময় যুবতীর বাবা, মামা ও দাদাকে খালি গায়ে ও খালি পায়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরায় পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশের এমন পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
এর পরেই উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা। ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে ধৃত প্রহ্লাদ দাসের সোমবার গভীর রাতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে তিন রাউন্ড গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তিনি জখম হন। পরে হাসপাতালে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনাতেও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও খবর
এর আগেও জুলাইয়ে ১১ বছরের এক বালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল। পুলিশের দাবি ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় তিনি অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনাও পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিল।
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে আসছেন। শুধু তাই নয়, পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন বলে দাবি সরকারি মহলের। তার পরেই একাধিক ঘটনায় পুলিশের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশি কাঠামো একই থাকলেও সরকার বদলের পর পুলিশের কাজের ধরনে কোনও পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নতুন সরকারের আমলে পুলিশ আরও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে পারছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এই তিনটি ঘটনাকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই আস্থা বজায় রাখতে হলে অপরাধের তদন্ত, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।


