Bengal Liberty : বারুইপুরের পর এ বার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা! স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন করে খুনের অভিযোগে ধৃত ২৩ বছরের যুবক প্রহ্লাদ দাসের পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় তার। এই ঘটনায় এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন বলে খবর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’দিন আগে গাইঘাটায় এক স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন করে খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় নিহত ছাত্রীর এক আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে মঙ্গলবার ভোররাতে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তদন্তকারীরা। সেখানে ঘটনার পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, পুনর্নির্মাণের পর আচমকাই পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে নেয় প্রহ্লাদ। এর পর পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে সে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি চলেছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
আরও খবর
এই ঘটনায় এক পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। তাঁকে কী ভাবে এবং কোথায় চিকিৎসা করানো হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য মেলেনি। ঘটনার পর মৃত যুবকের দেহ উদ্ধার করে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছেছেন প্রহ্লাদের পরিবারের সদস্যরাও।
অন্য দিকে, অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন পুলিশ আধিকারিকেরা। প্রহ্লাদের পরিবারের সদস্যেরা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন ও খুনের অভিযোগে গ্রেফতারের দু’দিনের মধ্যেই অভিযুক্তের এ ভাবে মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালাতে হয়েছিল। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, গুলি চালানোর পরিস্থিতি এবং গোটা ঘটনায় কোনও পৃথক তদন্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রয়েছে।


