Bengal Liberty: মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জে সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনায় নাটকীয় মোড়। অপরাধের পুনর্নির্মাণ চলাকালীন পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত সামাউন শেখকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সামাউনকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ অগস্ট সমশেরগঞ্জের পুরাতন ডাকবাংলা এলাকার বাসিন্দা সুজিত মণ্ডল রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর খোঁজ শুরু করেন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর উদ্ধার হয় সুজিতের খণ্ডিত দেহ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মৃতের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভও প্রকাশ করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরেও পদক্ষেপ করা হয়। সমশেরগঞ্জ থানার আইসি-কে ক্লোজ করা হয় এবং কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
আরও খবর
তদন্তভার হাতে পাওয়ার পর সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেন সিআইডির আধিকারিকেরা। মঙ্গলবার দুপুরে মূল অভিযুক্ত সামাউন শেখকে সঙ্গে নিয়ে সমশেরগঞ্জ থানার পুরাতন ডাকবাংলা এলাকায় পৌঁছন তদন্তকারী দল ও পুলিশকর্মীরা। সেখানেই সুজিতকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি ও অপরাধের ধরন সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছিল।
অভিযোগ, পুনর্নির্মাণ চলাকালীন আচমকাই পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন সামাউন। তাঁকে আটকাতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি হয়। সেই সময় পুলিশ গুলি চালায় বলে জানা গিয়েছে। গুলিতে জখম হন অভিযুক্ত। এরপর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর সামনে আসে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সমশেরগঞ্জ থানার পুলিশবাহিনী। সুজিত মণ্ডল খুনের তদন্তের মধ্যেই মূল অভিযুক্তের গুলিবিদ্ধ হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের পরবর্তী তথ্যের দিকেই এখন নজর রয়েছে।


