Chorbagan Incident
SIT গঠন করল রাজ্য

চোরবাগান কাণ্ডে তদন্তে বড় বাধা, ৩০টি সিসিটিভির ১৭টিই অকেজো! ফুটেজ বিশ্লেষণে ফরেন্সিক দল

Bengal Liberty : চোরবাগানের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঠিক কী ভাবে ঘটেছিল, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু মণ্ডপে লাগানো একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা চালু না থাকায় তদন্তে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে পুলিশকে। বিশেষ করে মণ্ডপের এক্সিট গেটের তিনটি ক্যামেরার মধ্যে দু’টি চালুই করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে, ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সম্পূর্ণ ছবি পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চোরবাগানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনাটি চলেছিল প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট ধরে। সেই সময়ের ঘটনাক্রম সঠিক ভাবে পুনর্গঠন করতে সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে তোলা ফুটেজের মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র খুঁজতে একসঙ্গে চার-পাঁচটি সিসিটিভি ফুটেজ পরপর চালিয়ে ফরেন্সিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কোন সময়ে মণ্ডপের কোন অংশে কতটা ভিড় ছিল, কী ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল এবং পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা কী ভাবে ঘটল, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তে জানা গিয়েছে, মণ্ডপের এক্সিট গেটে লাগানো তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে মাত্র একটি থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করতে পেরেছে পুলিশ। বাকি দু’টি ক্যামেরা চালুই করা হয়নি। ফলে, দর্শনার্থীদের বেরিয়ে যাওয়ার পথে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে প্রয়োজনীয় দৃশ্যের অভাব তদন্তে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

শুধু এক্সিট গেট নয়, মণ্ডপের সামগ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মণ্ডপে মোট ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার কথা। কিন্তু তার মধ্যে ১৭টি ক্যামেরা কার্যত লোকদেখানো ছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। ওই ক্যামেরাগুলি চালুই করা হয়নি। ফলে, বিপুল সংখ্যক ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের পর্যাপ্ত ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ইতিমধ্যেই মণ্ডপের দু’টি ডিভিআর বাজেয়াপ্ত করেছে। একটি ডিভিআরে ১৪টি এবং অন্যটিতে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ থাকার কথা। এর মধ্যে একটি ডিভিআর থেকে ১৩টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ফুটেজের হদিস পেতে এবং পাওয়া দৃশ্যগুলির সঙ্গে ঘটনার সময়কাল মিলিয়ে দেখতে তদন্ত চালাচ্ছেন আধিকারিকেরা।

এদিকে, মণ্ডপের পরিকল্পনা ও পরিকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট শিল্পীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মৃতদের পরিবারের যে সদস্যেরা সেদিন মণ্ডপে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বয়ান থেকে ঘটনার আগের পরিস্থিতি ও পদপিষ্ট হওয়ার সময়কার অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা চলছে। এই তদন্তের জন্য মেদিনীপুর, চাকদা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় লালবাজারের বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় আহত ২৫ জনের সঙ্গে আগেই কথা বলেছে পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজের ফরেন্সিক বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং মণ্ডপের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। নজরদারির ব্যবস্থায় গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।