Bengal Liberty : মহাসপ্তমীর রাতে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে কীভাবে শুরু হয়েছিল পদপিষ্টের ঘটনা? ঠিক কোন জায়গা থেকে ভিড়ের চাপে হুড়োহুড়ি শুরু হয়, কীভাবে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষীরা কতটা সক্রিয় ছিলেন, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন।
পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের এক্সিট গেটের সামনে মহিলাদের ভিড় তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। অভিযোগ, বৃষ্টি শুরু হলে অনেকেই সাজসজ্জা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় মণ্ডপের ভিতরেই দাঁড়িয়ে থাকেন। ফলে এক্সিট গেটের মুখে ক্রমশ ভিড় জমতে থাকে। গেটের একেবারে সামনে থাকা ভিড় থেকে কয়েক ফুট পিছনে প্রথমে চাপাচাপি ও হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। সেখানেই প্রথম কয়েকজনের পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তকারীদের আরও দাবি, গেটটির প্রস্থ ছিল প্রায় ১১ ফুট।
গেটের সামনে ভিড় জমে যাওয়ায় মণ্ডপের ভিতরেও ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে। ভিড়ের মধ্যে থাকা মহিলাদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনার জন্য পর্যাপ্ত মহিলা স্বেচ্ছাসেবক বা মহিলা পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিলেন কি না, সেটিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আরও খবর
ঘটনার সময় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়েও চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। গেটের পরিস্থিতি এবং মণ্ডপের ভিতরে হুড়োহুড়ির খবর দ্রুত দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে পৌঁছেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুজো কমিটির নিযুক্ত নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীদের কাছে ম্যানপ্যাক থাকলেও ঘটনার সময় তাঁরা কোথায় ছিলেন এবং বিপদের খবর পেয়েছিলেন কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।
ইতিমধ্যে এই ঘটনায় নয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ঘটনার সময় ঘোষণার দায়িত্বে থাকা কুশল মজুমদার এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থা ও তার কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন প্রশ্ন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোথায় ঘাটতি ছিল, শেষ পর্যন্ত সেই উত্তরই খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, বুধবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে এই ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ প্রকৃত অপরাধী প্রমাণিত হলে তাঁকে যোগ্য শাস্তি দেওয়া হবে।


