Bengal Liberty : মাঝআকাশে মৃত্যুর মুখ থেকে শতাধিক যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে এবার বিশেষ সম্মান পেলেন পাইলট স্মিত মচ্ছর। ভয়াবহ বিপদের মুখে নিজের জীবনের পরোয়া না করে যেভাবে যাত্রীদের সুরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি, তাতে গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছিলেন এই ভারতীয় পাইলট। এবার তাঁর সেই অসামান্য সাহসিকতার স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)।
আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের তরফে স্মিত মচ্ছর ও ফ্লাইদুবাইয়ের অন্যান্য ক্রু সদস্যদের ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ ২’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ার জন্যই এই সম্মান প্রদান করা হয়।
ঘটনাটি গত ৩০ সেপ্টেম্বরের। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানে আচমকাই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিমানের কো-পাইলট আচমকা ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা চালান। ককপিটে থাকা জরুরি সরঞ্জাম কুড়ুল দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম হন স্মিত। সেই সময় বিমানের উচ্চতা দ্রুত কমতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আরও খবর
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়েননি ভারতীয় পাইলট। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন তিনি। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা একসঙ্গে মিলে হামলাকারী কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলটের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। এই ঘটনায় যাত্রী ও বিমানের কর্মীদের প্রাণরক্ষা সম্ভব হয়।
স্মিত মচ্ছর ও তাঁর সহকর্মীদের এই বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মান। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম তাঁদের হাতে পদক তুলে দেন। উল্লেখ্য, ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ ২’ আমিরশাহির একটি উচ্চপর্যায়ের নাগরিক সম্মান। এটি দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান নয়, বরং উচ্চস্তরের একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।
মাঝআকাশেও নিজের দায়িত্ব কর্তব্য থেকে সরে না গিয়ে নিজের কথা চিন্তা না করে যাত্রীদের প্রাণের জন্য শেষ অবধি লড়াই চালিয়েছেন স্মিত। তাঁর এই লড়াই সত্যি সত্যি আগামী প্রজন্মের জন্য স্মরণীয় হয়ে রইল।


