Bengal Liberty : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সারের জোগান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব যাতে ভারতের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে না পড়ে, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে এই সঙ্কটকে হাতিয়ার করে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বিরোধীরা, এমনই অভিযোগ তাঁর। শুক্রবার গুজরাতের বনাসকাঁঠায় একটি জনসভা থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে জ্বালানি ও সারের সঙ্কট নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিরোধীরা।
সারের বাড়তি দামের চাপ নেয়নি সরকার
বনাসকাঁঠার সভা থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। জ্বালানি ও সারের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারকে হেয় করতেই এই প্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, দেশের অধিকাংশ মানুষ ভারতকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পরিশ্রম করছেন। কিন্তু কিছু মানুষের তা পছন্দ হচ্ছে না। দেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়লে তাঁরা আনন্দ পান। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে যখন গোটা বিশ্ব উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, তখন দেশে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সারের বাড়তি দামের চাপ নেয়নি সরকার
আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়লেও তার প্রভাব ভারতীয় কৃষকদের উপর পড়তে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষকদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট এখনও কাটেনি। তা সত্ত্বেও দেশের কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে কেন্দ্র। মোদি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধির চাপ থেকে ভারতীয় কৃষকদের রক্ষা করতে সরকার প্রায় ১৬ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করেছে। কৃষক-সহ দেশের সমস্ত নাগরিককে আশ্বস্ত করে তাঁর বার্তা, সঙ্কটের এই সময়ে সরকার তাঁদের পাশেই রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব যাতে দেশের সাধারণ মানুষের উপর না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই কেন্দ্রের লক্ষ্য।


