Bengal Liberty : স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান এবং ২৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই দুর্নীতির পিছনেও ক্যামাক স্ট্রিটের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করল বিজেপি। শুক্রবার বিজেপির ডাক্তার সেলের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযোগ তোলেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু। শুধু স্বাস্থ্যসাথী নয়, বন দফতরের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর দাবি, একাধিক দুর্নীতির নেপথ্যে ক্যামাক স্ট্রিটের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যসাথীতে ২৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি, তদন্তের দাবি
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। প্রশাসনিক মহলের অনুমান, এই ভুয়ো উপভোক্তাদের মাধ্যমে রাজ্যের কোষাগার থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ খরচ হয়ে থাকতে পারে। এই প্রসঙ্গ তুলে সায়ন্তন বসুর দাবি, অতীতে যেভাবে ভুয়ো রেশন কার্ড তৈরি করা হয়েছিল, একইভাবে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেও ভুয়ো কার্ড তৈরি করা হয়েছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। তাই তাঁকে এবং তৎকালীন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আইনের আওতায় এনে তদন্তের মুখোমুখি করা উচিত। প্রয়োজনে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদেরও দাবি জানান তিনি।
বন দফতরের নিয়োগ দুর্নীতিতেও ক্যামাক স্ট্রিটের যোগ?
স্বাস্থ্যসাথীর পাশাপাশি বন দফতরের বন সহায়ক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে। এই ঘটনায় ক্যামাক স্ট্রিট থেকে কোনও চিরকুট বা নির্দেশ এসেছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অরণ্য ভবনের বন সহায়করা নিজেদের নির্ধারিত বনাঞ্চলে দায়িত্ব পালন না করে সল্টলেকের সেক্টর থ্রি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন সায়ন্তন। এ ছাড়াও ইন্দ্রনীল সেনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সায়ন্তন বসুর বক্তব্য, রাজ্যে দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়াই বিজেপির লক্ষ্য। সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।


