Bengal Liberty, Kolkata : ‘বাটন’ কন্টেন্ট প্রকাশের পর থেকেই শাসকদলের অস্বস্তি বেড়েছিল এমনটাই দাবি বিরোধী মহলের। আর সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ‘Nonsane’ ওরফে শমীক অধিকারীর(Shamik Adhikari Political Controversy) গ্রেফতারি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। দেবাংশু ভট্টাচার্য, কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে শ্রেয়া পাণ্ডে সরব হয়েছেন ননসেনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় কুণাল ঘোষ সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ‘ধর্ষকদের নিয়োগকারী অমিত মালব্য(Shamik Adhikari Political Controversy) এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটারকে সমর্থন করেছেন’।

তিনি উল্লেখ করেছেন, মেয়েটি মিথ্যা বলছে এবং কেউ এই ঘটনার বিষয়ে জানে না। মেয়েটি আগে কেন বলেননি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অমিত মালব্য। ২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘটনাটি ঘটেছে। ১২ ঘণ্টা তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। এই ছেলেটিই কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে সরকার মহিলাদের জন্য নিরাপদ নয় বলে দাবি করে ভিডিও তৈরি করেছিল। বলেছিল নৌ ভোট টু TMC।’
দেবাংশুর কথায়, ‘এইমাত্র খবর পেলাম, সঠিক বাটনে নাকি চাপ পড়েছে! আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।’
অন্যদিকে শ্রেয়া পাণ্ডে নিজের ভিডিওর মাধ্যমে সমাজমাধ্যমে বলেন, ‘তিনি একজন বিপজ্জনক মানসিকতার লোক। এ বলেছিল তৃণমূলকে যেন কেউ ভোট না দেয় কারণ এখানে মেয়েরা নিরাপত্তা নেই। নারী নিরাপত্তাকে হাতিয়ার করে তিনি রাজনীতি করছিলেন। আপনার নিজের বাড়িতেই একজন মেয়ে নিরাপদ নয়। উনি ননসেন, ইনসেন।’
আরও খবর
আরজি কর মামলায় চুপ ছিল শাসকদল! (Shamik Adhikari Political Controversy)
সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন আরজি কর কাণ্ডের মতো বড় ইস্যুতে যেখানে শাসকদলের সোশ্যাল মিডিয়া বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এতটা আক্রমণাত্মক ছিল না, সেখানে একজন সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে নিয়ে এত দ্রুত এবং এত সংগঠিতভাবে তৃণমূল নেতাদের সরব হওয়া কি কাকতালীয় বিষয়? তৃণমূলের একাধিক নেতা শমীককে সরাসরি BJP-ঘনিষ্ঠ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, শাসকদলের বিরুদ্ধে নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর থেকেই শমীককে টার্গেট করা হচ্ছিল।

বারবার ব্যক্তিগত আক্রমণ কেন? (Shamik Adhikari Political Controversy)
বিরোধীদের আরও প্রশ্ন, গ্রেফতারির আগে থেকেই কেন তৃণমূল নেতাদের এত তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ দেখা গেল? আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই কি ‘সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়ে গিয়েছিল? একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর শাসকের বিরুদ্ধে কন্টেন্ট বানানোর পরই যদি এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে কি এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে?
সমালোচকদের একাংশের দাবি, আরজি কর ইস্যু হোক, শিক্ষা ব্যবস্থার একাধিক বিতর্ক হোক কিংবা স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা, সেই সময় শাসকদলের তরফে এমন আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া খুব একটা দেখা যায়নি। তাহলে এখন একজন সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে ঘিরে এত দ্রুত এবং এত জোরালোভাবে রাজনৈতিক সরবতা কেন? এটা কি শুধুই আইনি প্রক্রিয়া, নাকি বড় কোনও ইস্যু থেকে মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা?


