Bengal Liberty : গত ২৩ অক্টোবর দক্ষিণী তারকা প্রভাসের জন্মদিনে ইউটিউবে তেলুগু, তামিল ও হিন্দি ভাষায় মুক্তি পায় পরিচালক হনু রাঘবপুড়ি পরিচালিত এবং প্রভাস অভিনীত বহুচর্চিত ছবি ‘ফৌজি’-র টিজার। টিজারের শুরুতেই একটি গোপন আস্তানায় দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে একই টেবিলে বৈঠক করতে দেখা যায়। এর পরেই বিতর্কের সূত্রপাত। টিজারে নেতাজিকে প্রভাসের প্রশংসা করতেও দেখা যায়। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে সমালোচনা। প্রশ্ন উঠছে, সিনেমায় সৃজনশীল স্বাধীনতার নামে কি যা খুশি তাই দেখানো যায়? কেন নেতাজি দক্ষিণী এক অভিনেতাকে নিয়ে এতটা আগ্রহী হবেন? ‘ফৌজি’-র পরিচালক ও প্রভাসকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সিনেপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। এমনকি নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্র কুমার বসুও ছবির পরিচালকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
চন্দ্র কুমার বসুর আবেদন
চন্দ্র কুমার বসুর বক্তব্য, “সিনেমার নামে যা খুশি তাই দেখানো যায় না। মনে রাখতে হবে, দেশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের জন্য মানুষটা কী কী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি এই মুহূর্তে ছবির পরিচালক ও প্রযোজকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। ক্ষমা না চাইলে খুব শীঘ্রই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। দেশনায়কের অপমান কখনওই আমরা মেনে নেব না।”
জনমতের ভিন্ন সুর
একদিকে যখন ছবির বিরোধিতা করছেন অনেকে, তখন অন্য একটি অংশ ছবির পাশে দাঁড়িয়ে পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, হলিউডে ইতিহাসের চরিত্র ও প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজ তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উঠে আসছে কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’, ‘হি ইজ অ্যালাইভ’-এর মতো ছবি কিংবা ‘দ্য ম্যান ইন দ্য হাই ক্যাসল’-এর মতো ওয়েব সিরিজ। এই ধরনের প্রযোজনায় ইতিহাসের পরিচিত চরিত্র ও ঘটনাকে বিকল্প কল্পনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মতে, ভারতীয় দর্শকদের একাংশের কাছে এই ধরনের সৃজনশীল উপস্থাপনা এখনও ততটা পরিচিত নয়।
আরও খবর
কে ঠিক, আর কে ভুল, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। তবে মুক্তির আগেই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে প্রভাসের ছবি ‘ফৌজি’। মহাত্মা গান্ধীর পোস্টার থেকে শুরু করে নেতাজিকে টিজারে দেখানোর বিষয়—ছবিটি ঘিরে বিতর্ক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর সিনেপ্রেমীদের।


