GTA Corruption
GTA Corruption

GTA Corruption : জিটিএ-র দুর্নীতির পাহাড়! শিক্ষক নিয়োগে সিবিআই জট কাটাল রাজ্য, কাঠগড়ায় অতীত ব্যর্থতা

Bengal Liberty, ২৯ মে :

ক্ষমতার পালাবদলের পরেই এবার জিটিএ-র ডানা ছাঁটতে কড়া পদক্ষেপ নিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (GTA Corruption)। পাহাড়ের বুকে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সাম্রাজ্য এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতায় এবার সরাসরি আঘাত হানল রাজ্য সরকার। একদিকে পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে সিবিআই তদন্তের পথ সুগম করে পূর্বতন জিটিএ বোর্ডের গলায় আইনি ফাঁস পরানো হল, অন্যদিকে অতীত ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরে জিটিএ-র বিগত দিনের কর্মকাণ্ডকে কার্যত তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার শীর্ষ নেতৃত্ব বিমল গুরুং ও রোশন গিরির সঙ্গে মেগা বৈঠকের পর নবান্ন স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল, পাহাড়ে জিটিএ-র একচেটিয়া রাজত্ব, বেনিয়ম ও টালবাহানার দিন এবার শেষ (GTA Corruption)।

GTA Corruption
GTA Corruption

সিবিআইয়ের জালে জিটিএ (GTA Corruption)

পাহাড়ের স্কুলগুলিতে জিটিএ-র অধীনে হওয়া বেআইনি শিক্ষক নিয়োগ রাজ্যের বুকে অন্যতম বড় এক কেলেঙ্কারি। কলকাতা হাইকোর্ট আগেই জিটিএ-র এই বেনজির দুর্নীতির তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পূর্বতন তৃণমূল সরকার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ জোগাড় করেছিল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বর্তমান রাজ্য সরকার সেই মামলা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে দাঁড়াচ্ছে। ফলস্বরূপ, হাইকোর্টের দেওয়া সিবিআই তদন্তের নির্দেশই বহাল থাকছে। দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতোই এটি আরও একটি বড় ‘কপি’ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জিটিএ-র রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতির মাথাদের এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় এজেন্সির জেরার মুখে পড়তে হবে।

GTA Corruption
GTA Corruption

পূর্বতন সরকারকে তোপ শুভেন্দুর (GTA Corruption)

দুর্নীতির পাশাপাশি জিটিএ-র চূড়ান্ত প্রশাসনিক স্থবিরতা নিয়েও এদিন নবান্নে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন ব্যবস্থার দিকে সরাসরি আঙুল তুলে তাঁর তীক্ষ্ণ কটাক্ষ, “এতদিন প্রতি অর্থবর্ষেই পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও জিটিএ কোনও কাজ করতে পারেনি।” পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নের নামে পাঠানো কোটি কোটি টাকা ঠিক কোথায় গেল, সেই প্রশ্ন তুলেই জিটিএ-র পরিকাঠামো বদলে ফেলার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে এদিন। এই জট কাটাতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রায় ৪০০-রও বেশি শিক্ষককে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হলে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হয়েছিল। কিন্তু তদানীন্তন রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এই মামলায় স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছিল।” তিনি পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের সরকার এই মামলা থেকে এখন পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যে আমি মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি।”

GTA Corruption
GTA Corruption

বিকল্প পথে ৩ লক্ষ কোটির প্যাকেজ (GTA Corruption)

জিটিএ-র উপর আর কোনওভাবেই যে রাজ্য সরকার অন্ধ ভরসা রাখছে না, তা এদিনের সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট। পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৩ লক্ষ কোটি টাকার বিশেষ মেগা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও, তার রাশ থাকছে রাজ্য সরকারের হাতে। জিটিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শামা পারভীনকে এদিন কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, স্থানীয় সাংসদ রাজু বিস্তা ও বিধায়কদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় রেখেই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা যাতে জিটিএ-র গাফিলতিতে আর ব্যাহত না হয়, তার জন্য দার্জিলিং বাদে পাহাড়ের বাকি তিন পুরসভা, কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিকে আপাতত সরাসরি প্রশাসক বসানোর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

GTA Corruption
GTA Corruption

রাজ্যের এসএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির ক্ষত এখনও দগদগে। শিক্ষা দফতরের তাবড় আধিকারিকরা সিবিআই-ইডির জালে পড়ে এখন গারদের ওপারে। জিটিএ-র এই নিয়োগ দুর্নীতি আসলে সমতলের সেই মেগা-স্ক্যামেরই একটি অবিকল জেরক্স কপি। শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির যে মডেল সমতলে প্রয়োগ করা হয়েছিল, সুকৌশলে পাহাড়ের চুড়াতেও সেই একই ব্লু-প্রিন্টে চাকরি বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ। রাজ্যের এই আইনি পিছু হঠার ফলে এবার সেই ‘কপি-পেস্ট’ দুর্নীতির পর্দাফাঁস হওয়া কার্যত সময়ের অপেক্ষা।
পাহাড়ের রাজনীতিতে জিটিএ বরাবরই ক্ষমতার ভরকেন্দ্র এবং তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করে এসেছে। কিন্তু নবান্নের এই হাইভোল্টেজ বৈঠক প্রমাণ করল, লাগামহীন দুর্নীতি ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার দিন ফুরিয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে সিবিআই তদন্তের অবাধ ছাড়পত্র এবং কড়া প্রশাসনিক নজরদারির সাঁড়াশি চাপে কার্যত দিশেহারা হতে চলেছে পূর্বতন জিটিএ বোর্ড।

আরও পড়ুন :

TMC Leaders Arrested: ডোমজুড়ে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি! আদালতে উঠল ‘চোর’ স্লোগান

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury