Prashant Chandila
Prashant Chandila

I-PAC : ভোটের মাঝপথে বড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে! অনির্দিষ্ট কালের জন্য কাজ স্থগিত আই-প্যাকের, বদলাবে কি বাংলার ভোট সমীকরণ?

Bengal Liberty, ১৯ এপ্রিল :

বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ যখন চরমে, ঠিক সেই সময় বড়সড়ো ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল (I-PAC)। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনি কৌশলে বড়সড়ো প্রভাব ফেলতে পারে এমন সিদ্ধান্ত নিল পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক। ‘আইনি বাধ্যবাধকতা’র কারণ দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তাদের সমস্ত নির্বাচনি কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আইপ্যাক। শনিবার গভীর রাতে সংস্থার কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি ইমেলে জানানো হয়, আগামী ২০ দিনের জন্য সবাইকে ছুটিতে যেতে হবে। ১১ মে-র পর সংস্থার পরবর্তী অবস্থান ও সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। ভোটের আবহে এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আই-প্যাকের সরে দাঁড়ানো তৃণমূলের প্রচার কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলবে (I-PAC)।

I-Pac
I-Pac

ইডির স্ক্যানারে ছিল I-PAC (I-PAC)

গত কয়েকদিন ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির নজরদারিতে ছিল আই-প্যাক। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে সম্প্রতি সংস্থার অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এর আগেই আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবন এবং সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল তদন্তকারীরা। আইপ্যাক কর্মীদের পাঠানো ইমেলে জানানো হয়েছে, ‘আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করছি। আশা করছি দ্রুত ন্যায়বিচার মিলবে।’ তবে সংস্থার অন্দরে ইঙ্গিত, আইনি জটিলতা ও তদন্তজনিত পরিস্থিতি সামাল দিতেই আপাতত এই সাময়িক বিরতির পথে হাঁটা হয়েছে।

I-PAC
I-PAC

ভোটের মাঝপথে আই-প্যাক বিরতি (I-PAC)

রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে তৃণমূলের নির্বাচনি কৌশল, প্রচার পরিকল্পনা এবং জনমত সমীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলায় আই-প্যাক। সেই সংস্থার কর্যপ্রক্রিয়া আচমকা থমকে যাওয়ায় ভোটের আবহে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ঘাসফুল শিবিরে। যদিও তৃণমূলের একাংশের দাবি, বিকল্প ব্যবস্থায় কিছু কাজ চালু থাকবে এবং কিছু কর্মী দূরত্ব রেখেই দায়িত্ব সামলাবেন, তবু মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তায় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

I-PAC director arrest
I-PAC director arrest

অন্যদিকে, আই-প্যাককে ঘিরে ইডির পদক্ষেপ নিয়ে শুরু থেকেই সরব তৃণমূল নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলেই তুলে ধরেছেন। ইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে আই-প্যাকের অফিসে পৌঁছে বিজেপির বিরুদ্ধে গোপন নির্বাচনি নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছিলেন।বর্তমানে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। তবে নির্বাচনের এই স্পর্শকাতর সময়ে আই-প্যাকের এই সাময়িক সরে দাঁড়ানো বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন কোনও প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন :

I-pack Hearing: মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কি ভাঙছে আইনের শাসন? – আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তীব্র প্রশ্ন, শুনানি পিছিয়ে ১৪ এপ্রিল

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury