Bengal Liberty : পুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে! কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো মণ্ডপে প্রবল ভিড়ের জেরে পদপিষ্টের মতো মর্মান্তিক ঘটনা। ঠাকুর দেখতে গিয়ে ভিড়ের চাপে বিপত্তি, আহত বহু দর্শনার্থী। তাঁদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তার মধ্যে একজন সাত বছরের শিশু রয়েছে বলে আরজি কর সূত্রে খবর। তবে মৃতের সংখ্যা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চতুর্থী থেকেই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপ ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছিল। উদ্বোধনের পর থেকেই ভিড় বাড়তে শুরু করে। মহাষষ্ঠী পেরিয়ে মহাসপ্তমীতেও ঠাকুর দেখতে মানুষের ঢল নামে মণ্ডপে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দড়ি দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে ধাপে ধাপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করানো হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু কীভাবে সেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মণ্ডপের ভিতরে প্রচুর মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। সেই সময় প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় অনেক দর্শনার্থী বাইরে বেরোতে চাননি। অন্যদিকে, বাইরে অপেক্ষারত মানুষও মণ্ডপে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। ফলে প্রবেশ ও বেরোনোর পথে ভিড় জমে যায়। শুরু হয় ঠেলাঠেলি ও ধস্তাধস্তি। তার জেরেই পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ উঠছে।
আরও খবর
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের আরও দাবি, ভিড়ের চাপে মণ্ডপের লোহার খাঁচার একটি অংশ ভেঙে যায়। তবে কী কারণে ওই অংশ ভেঙেছে, তা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রবল ভিড়, বৃষ্টি নাকি অন্য কোনও কারণে এই বিপত্তি, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় ঠেলে আহতদের উদ্ধার করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশি নজরদারি, অ্যাম্বুল্যান্স এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কয়েক জন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, দুর্ঘটনার সময় পর্যাপ্ত পুলিশকর্মীকেও চোখে পড়েনি। তাঁদের বক্তব্য, এত বড় মণ্ডপে বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে আরও উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আহতদের একের পর এক কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনকে সেখানে আনা হয়েছে। আরও আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকে এখনও তাঁদের আত্মীয়স্বজনের খোঁজ করছেন। হাসপাতালের এমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ড-সহ বিভিন্ন বিভাগে আহতদের চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশের নগরপাল হাসপাতালে পৌঁছন। মুখ্যমন্ত্রীও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। ক্লাবের সংশ্লিষ্ট সকলকে থানায় ডেকে পাঠানোর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে আপাতত দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।
এদিকে, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ দিনের জন্য সমস্ত পুজোমণ্ডপ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত বিপুল ভিড় কীভাবে জমল? প্রবেশপথে জায়গার সংকুলান না হলে আরও দর্শনার্থীকে ঢুকতে দেওয়া হল কেন? ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না এবং এই দুর্ঘটনার দায় কার, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা জানতে সরকারি বিবৃতির অপেক্ষা রয়েছে।


