Bengal Liberty: আজ ষষ্ঠী। ঢাকে কাঠি পড়তেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে কলকাতা থেকে জেলা। সাবেকি পুজোর ঐতিহ্যের পাশাপাশি গত কয়েক বছরে থিমের পুজোর আধিক্যও চোখে পড়ার মতো। নতুন প্রজন্মের কাছে থিমের পুজো বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কোন পুজো কমিটি কী থিম আনছে, মণ্ডপসজ্জায় কতটা অভিনবত্ব থাকছে, প্রতিমার রূপ কেমন হচ্ছে—তা নিয়ে প্রতি বছরই পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি উত্তেজনা।
এই আবহেই প্রকাশ্যে এল ২০২৬ সালের দেবী দুর্গা সম্মানের তালিকা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় এই সম্মান প্রদান করেছে। বিভিন্ন বিভাগে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছে শহরের একাধিক পুজো কমিটি।
সেরার সেরা বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি এবং তৃতীয় স্থানে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।
আরও খবর
সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম মুদিয়ালি ক্লাব, দ্বিতীয় তাটা বারোয়ারি দুর্গোৎসব সমিতি, তৃতীয় বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ আহিরীটোলা সর্বজনীন।
সেরা মণ্ডপ বিভাগে প্রথম হয়েছে খিদিরপুরের ২৫ পল্লি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আমরা ক’জন কল্যাণ সমিতি।
সেরা আলোকসজ্জা বিভাগে প্রথম সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ, দ্বিতীয় বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব এবং তৃতীয় শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।
দুর্গাপুজোর আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও সচেতনতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে বেশ কয়েকটি পুজো কমিটি তাদের থিম সাজিয়েছে। সেরা পরিবেশবান্ধব বিভাগে প্রথম নলিন সরকার স্ট্রিট সর্বজনীন দুর্গোৎসব, দ্বিতীয় পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্ক এবং তৃতীয় রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।
সেরা সমাজ সচেতনতা বিভাগে প্রথম কাশী বোস লেন দুর্গাপুজো সমিতি, দ্বিতীয় বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন, তৃতীয় চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ অজেয় সংহতি।
এ ছাড়াও বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে চারটি পুজো কমিটি—বি.জি. লাইনস আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়ার, ঠাকুরপুকুর স্টেট ব্যাঙ্ক সর্বজনীন এবং সমাজ সেবী সংঘ।
সাবেকিয়ানা ও আধুনিক থিমের মেলবন্ধনে এ বারও শহরের পুজোয় থাকছে নানা চমক। কোন মণ্ডপ দর্শনার্থীদের মন জয় করবে, উৎসবের দিনগুলিতে এখন সেই অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছে কলকাতা।


