Bengal Liberty : ৯১ বছরে পা দিল সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের দুর্গাপুজো। এবারের থিম ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ। দেশাত্মবোধক গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই থিমের মাধ্যমে গানটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তার ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।
বরাবরই কলকাতার বিশেষ পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের দুর্গাপুজো। এই পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। এ বছর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শিল্পমন্ত্রী তপস রায়-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা।
এ বারের থিমে ‘বন্দে মাতরম’ গানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। মণ্ডপের বাইরের আলোকসজ্জার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই দেশাত্মবোধক গানের ইতিহাস ও তাৎপর্য।
আরও খবর
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, জাতীয় সঙ্গীতের মতো ‘বন্দে মাতরম’কেও স্কুলগুলিতে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু স্কুলেই নয়, মাদ্রাসাগুলিতেও এই গান বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি এ দিন উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে ফের উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘বন্দে মাতরম’ গানটি তৎকালীন বাঙালি বিপ্লবীদের কাছে অনুপ্রেরণার অন্যতম মন্ত্র হিসেবে কাজ করেছিল। তাই এই গানের মাহাত্ম্য, প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস সম্পর্কে দেশের প্রতিটি নাগরিকের, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মানুষের, জানা জরুরি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’।
রবিবার সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। একে একে বক্তব্য রাখেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী গত কয়েক বছরে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের দেশাত্মবোধক থিমগুলির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে এই ধরনের থিমকে কেন্দ্র করে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে পুজো উদ্যোক্তাদের। কখনও পুলিশ দিয়ে মণ্ডপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আবার কখনও দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বার আর সেই ধরনের সমস্যা হবে না। দর্শনার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মণ্ডপে প্রবেশ করে দুর্গাপ্রতিমা দর্শন করতে পারবেন।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কার্যত কলকাতা জুড়ে শুরু হয়ে গেল বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর রবিবার সন্ধ্যা থেকেই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় মণ্ডপ।


