Bengal Liberty : মহালয়ার দিন থেকেই উৎসবের মেজাজে মাতল কলকাতা। রেড রোডের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা থেকে ইডেন গার্ডেন্সের চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা—শনিবার শহরজুড়ে ধরা পড়ল দুর্গোৎসবের আবহ। তিন হাজার ড্রোনের আলোয় কলকাতার আকাশে ফুটে উঠল মা দুর্গার প্রতিচ্ছবি ও নানা পৌরাণিক দৃশ্য। অন্যদিকে, একসঙ্গে তিন হাজার ঢাকির বাদ্য পরিবেশনা তৈরি করল নতুন নজির। এই বিশেষ আয়োজনের স্বীকৃতি হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের শংসাপত্র মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দেন।
আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মাতৃপক্ষের সূচনার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে দুর্গোৎসবের আবহ শুরু হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, মহালয়ার দিন থেকেই কার্যত পুজোর সূচনা হল বাংলায়। রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন্স—সর্বত্রই ছিল উৎসবের আবহ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির চমক।
রেড রোডে বাংলার সংস্কৃতির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
শনিবার বিকেলে রেড রোডে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সেখানে পা মেলান মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রশাসনিক আধিকারিক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
আরও খবর

এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বাংলার প্রতিটি জেলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা। কালিম্পং থেকে কাকদ্বীপ—রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের লোকশিল্প, নৃত্য, গান এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা স্থান পায় রেড রোডের শোভাযাত্রায়। প্রতিটি জেলার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, দুর্গাপুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। এই উৎসবে রাজ্যের প্রতিটি মানুষকে সামিল করার পাশাপাশি বাংলার প্রতিটি জেলার নিজস্বতাকে সম্মান জানানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
ইডেনে তিন হাজার ড্রোন ও ঢাকের ছন্দ
রেড রোডের অনুষ্ঠান শেষে ইডেন গার্ডেন্সে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মহিষাসুরমর্দিনীর আবহে দেবী দুর্গার আবাহন ঘিরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুরকার শান্তনু মৈত্রের সুরে এবং শিল্পী কৌশিকী চক্রবর্তীর কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।তবে দর্শকদের নজর কাড়ে তিন হাজার ড্রোনের আলোক প্রদর্শনী।

কলকাতার আকাশে ড্রোনের সাহায্যে ফুটিয়ে তোলা হয় মা দুর্গার প্রতিচ্ছবি এবং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি। আলো, সুর ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে কলকাতা যেন এক মায়াময় আবহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।পাশাপাশি, একযোগে তিন হাজার ঢাকির বাদ্য পরিবেশনা এবং সমবেত উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনি অনুষ্ঠানে বাংলার ঐতিহ্যকে সামনে নিয়ে আসে। তিন হাজার ঢাকির এই পরিবেশনার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতির শংসাপত্র মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল।
বাংলার উৎসব পৌঁছবে বিশ্বমঞ্চেও
ইডেন গার্ডেন্সের এই বিশেষ অনুষ্ঠান কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রবাসী বাঙালিদের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা থেকে আমেরিকার বস্টন এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারেও অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হওয়ায় প্রবাসী বাঙালিরাও সাক্ষী থাকলেন এই বর্ণময় আয়োজনের।


