Bengal Liberty : পুজোর আনন্দের মাঝেই ফের বিপর্যয়। নবমীর ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল কলকাতার বাঘাযতীন বাজারের অন্তত ৪৫টি দোকান। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন। তবে সকাল ৮টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে খবর। এই ঘটনায় কার্যত সর্বস্বান্ত বহু ব্যবসায়ী। দোকানের পসরা থেকে শুরু করে পুজোর সামগ্রী, সবই গ্রাস করেছে আগুন। উৎসবের মরশুমে এমন বিপর্যয়ে মাথায় হাত তাঁদের। এবার নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে রাজ্য সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দমকল।
সর্বস্বান্ত বহু ব্যবসায়ী
বাঘাযতীন বাজারটি বেশ পুরনো ও বড়। এই বাজারের উপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করেন বহু ছোট-বড় ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার ভোরে আচমকাই সেখানে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একাধিক দোকানে। প্রাথমিকভাবে একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয় দমকলের ইঞ্জিনের সংখ্যা। শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫টি ইঞ্জিন নামানো হয়।ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি দশকর্মার দোকান বলে জানা গিয়েছে। দুর্গাপুজো শেষ হলেই লক্ষ্মীপুজো। সেই কথা মাথায় রেখে দোকানে লক্ষ্মীঠাকুরের মূর্তি ও পুজোর নানা সামগ্রী মজুত করেছিলেন বিক্রেতারা। কিন্তু আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। এক মহিলা বিক্রেতার কথায়, লক্ষ্মীপুজোর জন্য রাখা সমস্ত মূর্তি আগুনে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পুজোর সামগ্রীও কিছু বাঁচানো যায়নি। উৎসবের মরশুমে বাড়তি বিক্রির আশায় অনেকেই দোকানে বেশি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সেই পুঁজি কার্যত শেষ। দোকানের পাশাপাশি পুড়ে গিয়েছে তাঁদের আগামী দিনের রোজগারের আশাও। এই পরিস্থিতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বহু ব্যবসায়ী।
দমকলের দেরিতে পৌঁছনোর অভিযোগ
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দমকল দেরিতে পৌঁছেছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, প্রথমে একটি ইঞ্জিন এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আরও ইঞ্জিন আসে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ আকার নিয়েছিল। এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অনেকের কাছেই দোকানই ছিল আয়ের একমাত্র উৎস। পুজোর আগে ধারদেনা করে বা জমানো টাকা খরচ করে মালপত্র তুলেছিলেন তাঁরা। আগুনে সব হারিয়ে এখন কীভাবে ফের ঘুরে দাঁড়াবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজ্য সরকার যেন তাঁদের পাশে দাঁড়ায়। নতুন করে দোকান তৈরি এবং ব্যবসা শুরু করার জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হোক। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি সহায়তা না পেলে এই বিপুল ক্ষতি সামলে ওঠা কঠিন।


