Bengal Liberty : চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে একের পর এক বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মণ্ডপ থেকে বেরোনোর পথে রাস্তার অনেকটা অংশ জুড়ে একাধিক স্টল বসানো হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্টলগুলি বসানোর জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ঘটনার সময় মণ্ডপের গেটে দড়ি ছেড়ে দেওয়ার কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ভিড়ের গতিবিধি, দর্শনার্থীদের বেরোনোর পথ এবং ভুল ঘোষণার প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পুজোর আগে উদ্যোক্তারা পুলিশকে কী কী তথ্য দিয়েছিলেন, তা জানতেও সংশ্লিষ্ট পোর্টাল থেকে নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অনুমতি ছাড়া স্টল
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মণ্ডপ থেকে বেরোনোর পর রাস্তায় বেশ কয়েকটি স্টল বসানো হয়েছিল। সেগুলির কোনও অনুমতি ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। স্টলগুলি রাস্তার অনেকটা অংশ দখল করে থাকায় বেরোনোর গেটের পরের রাস্তা কার্যত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল। ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতির কোনও প্রভাব পড়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুজোর আগে কী তথ্য দিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা?
পুজোর আগে মণ্ডপের আয়োজন ও নিরাপত্তার বন্দোবস্ত সম্পর্কে পুজো কমিটিকে পুলিশকে বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়। উদ্যোক্তারা কী ধরনের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছিলেন, তা জানতে সংশ্লিষ্ট পোর্টালে থাকা নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনও পার্থক্য ছিল কি না, তদন্তে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। লালবাজার সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় মণ্ডপের গেটে দড়ি ছেড়ে দেওয়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মণ্ডপের ভিতর থেকে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গিয়েছে, প্রবেশপথ থেকে ভিতরের গোলাকার অংশের অনেকটাই ফাঁকা ছিল। তবে বেরোনোর গেটের কাছে ভিড় জমে গিয়েছিল। ফুটেজে আরও দেখা গিয়েছে, ঘটনার সময় প্রবেশপথের দিক থেকে পুলিশ দর্শনার্থীদের বাইরে বের করে দিচ্ছিলেন।
আরও খবর
সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার পুনর্গঠন
ঘটনার সময় বাইরে বেরোনোর গেটে ভিড় কেন বাড়ল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বৃষ্টির কারণে দর্শনার্থীদের বেরোনোর পথে চাপ তৈরি হয়েছিল কি না, হঠাৎ ঠেলাঠেলি কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং ভুল ঘোষণার সঙ্গে তার কোনও যোগ ছিল কি না, তা বোঝার চেষ্টা চলছে। সিসিটিভি ফুটেজের সময় মিলিয়ে ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরদিকে, মণ্ডপটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে বাইরের শব্দ ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে। ফলে কোনও ঘোষণা করা হয়ে থাকলে, তার প্রভাব দর্শনার্থীদের উপর কখন এবং কীভাবে পড়েছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, চোরবাগানে পুলিশ, হোমগার্ড ও স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে প্রায় ১৫০ জন দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৫০ জন ছিলেন অস্থায়ী হোমগার্ড। প্রথম কয়েক দিন একজন ইন্সপেক্টর দায়িত্ব সামলালেও, ভিড়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরে দু’জন ডেপুটি কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কীভাবে এই বিপুল ভিড়ের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটল, নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না এবং বেরোনোর পথে বাধা তৈরি হয়েছিল কি না, সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


