Masood Azhar
Masood Azhar

বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের নয়া নাটক! মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে ৭০ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা

Bengal Liberty: জঙ্গি দমনে পাকিস্তানের ‘পদক্ষেপ’ ঘিরে ফের সরগরম ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক মহল। জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদ। কিন্তু পাকিস্তানের এই ঘোষণাকে কোনওভাবেই বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ বলে মানতে নারাজ নয়াদিল্লি। বরং এই পুরস্কার ঘোষণাকে সরাসরি ‘নাটক’ এবং ‘ভাঁওতা’ বলে কটাক্ষ করেছে ভারত।

S. Jaishankar
S. Jaishankar

পুরস্কার ঘোষণায় ‘নাটক’ দেখছে ভারত

পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (FIA)-র ২০২৬ সালের ‘রেড বুক’-এ ফের নাম রয়েছে মাসুদ আজহারের। তাঁকে পলাতক জঙ্গি হিসেবে দেখিয়ে তাঁর সম্পর্কে তথ্যের জন্য পুরস্কারের অঙ্ক বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ পাকিস্তানি টাকা করা হয়েছে।

এর পরেই পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, পাকিস্তানের এমন ‘গিমিক’ বা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা নতুন নয়। তাঁর দাবি, শুধু ঘোষণা করলেই হবে না, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বাস্তব এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাকিস্তানের এই ঘোষণা কতটা কার্যকর, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে ভারত।

FATF-এর চাপেই কি পদক্ষেপ?

মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে পুরস্কারের অঙ্ক বাড়ানোর সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অক্টোবরের ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর প্লেনারির আগে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ সামনে এসেছে।

ফলে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সামলাতেই ইসলামাবাদ এই পদক্ষেপ করেছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভারতের বক্তব্য, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কাগজে-কলমে ঘোষণা নয়, বাস্তবে ব্যবস্থা নেওয়াই আসল। তাই মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণা করে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলকে কতটা সন্তুষ্ট করতে পারবে, তা নিয়েই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পহেলগাঁওয়ের কথা মনে করাল নয়াদিল্লি

মাসুদ আজহার প্রসঙ্গে ফের উঠে এসেছে পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ। রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ভারত জানিয়েছে, ৯/১১, ২৬/১১ এবং পহেলগাঁওয়ের মতো জঙ্গি হামলার কথা বিশ্ব এখনও ভুলে যায়নি। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদকে শুধু বিবৃতি ও ঘোষণার মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন জঙ্গি, তাদের সংগঠক, অর্থদাতা এবং মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা।

অপারেশন সিঁদুরেও নিশানায় ছিল জইশ

২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানে জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটিও নিশানায় এসেছিল। ভারতীয় সেনার দাবি অনুযায়ী, বাহাওয়ালপুরের মার্কাজ সুবহানাল্লাহ ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। ওই ঘাঁটিকে জইশের প্রশিক্ষণ ও মতাদর্শ প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

ফলে মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণার পরেও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—ঘোষণা নয়, চাই বাস্তব পদক্ষেপ। আর সেই কারণেই পাকিস্তানের ‘৭০ লক্ষ টাকার পুরস্কার’-কে ফের একবার ‘নাটক’ বলেই কড়া বার্তা দিল নয়াদিল্লি।

Bengal Liberty