Bengal Liberty : যুদ্ধ থামানোর ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ সেই সংঘর্ষবিরতির খবরই নাকি অজানা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে! রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে এবার জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধের ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু তাঁর এই ঘোষণার পরেও ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে রুশ হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি যুদ্ধের আগুন নিভবে, নাকি সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা ঘিরেই নতুন করে বাড়বে কূটনৈতিক টানাপোড়েন?
ট্রাম্পের ঘোষণায় চমক
১১ অক্টোবর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষে অবিলম্বে ‘এনার্জি সিজফায়ার’ বা জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধের ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, দুই পক্ষই এই সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে। তবে কী কী শর্তে এই সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হবে, কত দিন তা চলবে কিংবা কোন কোন পরিকাঠামো এই চুক্তির আওতায় আসবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, বিষয়টি তাঁর কাছে নতুন খবর। অর্থাৎ, দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার সময় কিয়েভের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও খবর
জেলেনস্কির শর্ত, রাশিয়াকে থামতে হবে
ট্রাম্পের ঘোষণাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেননি জেলেনস্কি। বরং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, রাশিয়াও যদি ইউক্রেনের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করে, তবে তাঁর দেশ রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে পাল্টা হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। অর্থাৎ, সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করতে হলে দুই পক্ষকেই একই শর্ত মেনে চলতে হবে। কিন্তু সমস্যা হল, মস্কোর তরফে ট্রাম্পের ঘোষণায় সম্মতির কোনও স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
শান্তি ফেরানোই কি ট্রাম্পের লক্ষ্য
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতি থেকে শুরু করে জ্বালানি সরবরাহ এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। তাই জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমতে পারে। তবে তার জন্য প্রয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক সম্মতি এবং চুক্তি মেনে চলার সদিচ্ছা।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ট্রাম্পের ঘোষণা কি সত্যিই সংঘর্ষবিরতির পথ প্রশস্ত করবে? নাকি রাশিয়ার সম্মতি ও ইউক্রেনের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে এই উদ্যোগও কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে? আপাতত মস্কোর স্পষ্ট অবস্থান এবং সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হওয়ার বাস্তব প্রমাণের দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল। সেই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নয়া গিমিকি রাজনীতি কতটা কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেই সেটাই দেখার।


