Bengal Liberty : ফের বিশ্বমঞ্চে মুখ পুড়ল মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ২৪ ঘণ্টা আগেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তিনি দাবি করেছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির জেরে যুদ্ধে ইতি পড়েছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের একবার ইউক্রেনের একটি গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে বড়সড় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সেই সঙ্গে একটি গ্যাস স্টেশনকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী।

এই হামলার পরেই ফের একবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে চলে এল। এর আগেও বহুবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দাবি করলেও, সেই দাবিগুলি শেষমেশ সারবত্তাহীন প্রমাণিত হয়েছে । আদৌ রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি কোনও দিন স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ চরমে। এরই মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ট্রাম্পের উদ্দেশে জেলেনস্কির জোরালো প্রশ্ন
মধ্যরাতে রাশিয়ার হামলার পরেই সাংবাদিক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দেন জেলেনস্কি। গত রাতে রাশিয়ার কোনও তেল শোধনাগারই আগুনে জ্বলছিল না। অথচ মধ্যরাতে রাশিয়া ইউক্রেনের একটি গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। ড্রোন হামলা চালিয়ে একটি সাধারণ গ্যাস স্টেশনেও হামলা করা হয়েছে।”
আরও খবর
তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্পের প্রতি এটাই পুতিনের জবাব। রাশিয়ার হামলা।” গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষিত ডিজেল-সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে হওয়া আলোচনার বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে ইউক্রেন। জেলেনস্কির কটাক্ষ, “আমার সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা বা বৈঠক না করেই হঠাৎ করে ট্রাম্প সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা করে দিলেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়া হামলা চালিয়ে বুঝিয়ে দিল, তারা কোনও রকমের মধ্যস্থতাতেই বিশ্বাস করে না। খুব তাড়াতাড়ি রাশিয়াকে এই হামলার ফল ভোগ করতে হবে।”
নির্বাচনের আগে প্রবল চাপে ট্রাম্প
রবিবার হঠাৎ করেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে রাশিয়া-ইউক্রেনের সংঘর্ষবিরতির চুক্তির ঘোষণা করার পর থেকেই এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এর আগেও অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতির সমস্ত কৃতিত্ব নিজেই গ্রহণ করেছিলেন ট্রাম্প। এমনকি তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার দাবিও নিজেই তুলেছিলেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধে এই মুহূর্তে পোল্যান্ড ও ফ্রান্সের জড়িত থাকার সম্ভাবনা আরও বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত এই চলমান সংঘাত কোথায় গিয়ে শেষ হয়, সেটাই দেখার। তবে আগামী মাসে নির্বাচনের আগে নিজের জনপ্রিয়তা ফিরে পেতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমশ মরিয়া হয়ে উঠেছেন, তা পুরোপুরি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।


