Bengal Liberty:
একটি অগ্নিকাণ্ড যেন শহরের বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ভিতরের ছবিটাই সামনে এনে দিয়েছে।পুরসভার চোখে ধুলো দিয়েই রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংয়ে চলছে ব্যবসা। মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যুর পর কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে হোটেল, গেস্ট হাউস, রেস্তরাঁ ও পানশালার পরিকাঠামো যাচাই। আর সেই তল্লাশিতেই একের পর এক উঠে আসছে অনুমোদনহীন নির্মাণ, আবাসিক ভবনের বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং অগ্নিসুরক্ষায় গাফিলতির অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শহরের বহু প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জারি ‘ক্লোজার’ নোটিস(KMC Survey)
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রায় ৩০০টি প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে পরিদর্শন চালানো হয়েছে। পরিদর্শনের তালিকায় থাকা অধিকাংশ জায়গাতেই কোনও না কোনও অসঙ্গতি মিলেছে। ফলে ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে জারি হয়েছে ‘ক্লোজার’ নোটিস। পুরসভার নজরে এসেছে, বসবাসের উদ্দেশ্যে তৈরি একাধিক বাড়ির বড় অংশেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই হোটেল, গেস্ট হাউস, রেস্তরাঁ কিংবা অন্য ব্যবসা চালানো হচ্ছে।
আরও খবর

শুধু ভবনের ব্যবহার নিয়েই নয়, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বহু প্রতিষ্ঠানে দমকলের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেই। কোথাও আবার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও তা মেয়াদোত্তীর্ণ কিংবা ব্যবহারের উপযোগী নয়। নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় আবেদন করার পরেই ব্যবসা চালুর অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুরসভা।
অগ্নিকাণ্ডের পরেই হুঁশ (KMC Survey)
মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘটনার পরেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও কলকাতা পুরসভা যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। এই দলে পুরসভার লাইসেন্স বিভাগ, কেএমডিএ এবং দমকলের আধিকারিকরাও রয়েছেন। ১৬টি বরোকে ভিত্তি করে আলাদা দল তৈরি করে চলছে এই নজরদারি। বন্ধের নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না, সেই বিষয়টিও দেখছে লালবাজার।
KMC Survey
তবে অভিযান ঘিরে পুর আইনের কয়েকটি ধারার ব্যাখ্যা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। পুর আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, ৩৯০(২/এ) ধারায় কোনও ভবনের একটি অংশ বসবাসের কাজে ব্যবহৃত হলেও সেটিকে রেসিডেন্সিয়াল হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে। আবার ৪৩৫(এ) ধারায় আবাসিক বাড়িতে নির্দিষ্ট ৪১ ধরনের ব্যবসা করার সুযোগ রয়েছে, যেখানে সবক্ষেত্রে দমকলের অনুমোদন বাধ্যতামূলক নয়। তাহলে কোন পরিস্থিতিতে কোনও ভবনকে বাণিজ্যিক হিসেবে চিহ্নিত করা হবে এবং কোন ব্যবসার ক্ষেত্রে দমকলের ছাড়পত্র আবশ্যিক—তা স্পষ্ট করতে আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছেন পুর আধিকারিকদের একাংশ।

আরও পড়ুনঃ নেপালের বন্যার পর ভারতে বাড়ছে জলস্তর! সতর্ক প্রশাসন


