Bengal Liberty
কলকাতার নীলরতন সরকার (NRS Hospital News) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শৌচাগার থেকে উদ্ধার হল এক নার্সের অচৈতন্য দেহ। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্বরে। বুধবার রাতে হাসপাতালের মেটারনিটি বিভাগের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (HDU) কর্তব্যরত অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যু হয় ওই নার্সের।
মৃত নার্স পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা ছিলেন। সম্প্রতি বদলি হয়ে এনআরএস হাসপাতালে কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকতেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।

ডিউটিতে থাকাকালীন মৃত্যু নার্সের NRS Hospital News
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার রাত ৮টা নাগাদ ওই নার্স নাইট ডিউটিতে যোগ দেন। রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ ডিউটি চলাকালীন শৌচাগারে যান তিনি। প্রায় সাত মিনিট পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় সন্দেহ হয় সহকর্মীদের। তাঁরা শৌচাগারের সামনে গিয়ে বারবার ডাকাডাকি করলেও ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি।
আরও খবর

শৌচাগারের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। কোনও উপায় না দেখে হাসপাতালের কর্মী মহম্মদ সামশের আলম এবং শ্রেয়া গাইন দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। সেখানে ওই নার্সকে মেঝেতে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালের বেডে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এন্টালি থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে দ্রুত এনআরএস হাসপাতালে পৌঁছয় এন্টালি থানার পুলিশ। এন্টালি আউটপোস্ট থেকেও থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে হোমিসাইড শাখার পুলিশ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন।
ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে
চিকিৎসক ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। কীভাবে মৃত্যু হল বা এর নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের অনুরোধে মৃত নার্সের দেহ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম বিভাগের আধিকারিকরা বিষয়টি নজরদারিতে রাখবেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মৃতদেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন বা কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। বাথরুমে যাওয়ার ঠিক আগে এইচডিইউ নার্সিং স্টেশন থেকে তিনি ‘ফেন্টানিল’ (Fentanyl) নামক শক্তিশালী ড্রাগের তিনটি ভায়াল সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকদের অনুমান, মাত্রাতিরিক্ত কোনো ওষুধ প্রয়োগের কারণেই হয়তো এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তাঁর কোন ব্যক্তিগত বা পেশাগত মানসিক চাপ ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ওই নার্সের পরিচিত এক সূত্রের দাবি মাত্র এক বছর আগেই বিয়ে হয়েছিল রূপালি বর্মন নামে ওই স্টাফ নার্সের। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়নি।
কর্তব্যরত অবস্থায় নার্সের এই অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে এবং ঠিক কী কারণে ওই নার্সের মৃত্যু হল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর।


