Bengal Liberty : যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক সিজেপি-র দুই শীর্ষনেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁদের সঙ্গে আরও ১২ জনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এ বার আটক নেতাদের সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। তাঁদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সিজেপি-র আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংহ। এই ঘটনায় আটক নেতাদের আইনি অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিজেপি।
আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে বাধা
সমাজমাধ্যমে রত্না সিংহ অভিযোগ করেছেন, জাফরপুর কালান থানায় আটক নেতাদের সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। থানার ওসি সেই অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছেন বলেও দাবি তাঁর। রত্নার প্রশ্ন, কোন আইনি ক্ষমতাবলে নেতাদের আটকে রাখা হয়েছে? কেন তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না?
সিজেপি-র আইনজীবী পুষ্প শর্মাও একই অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা-সহ আটক ১৪ জনের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাননি তিনি। সৌরভের সঙ্গে নিয়মিত ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ ছিল তাঁর। শেষবার সৌরভ জানিয়েছিলেন, তাঁদের ফোন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তার পর থেকে বারবার ফোন করেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।
আরও খবর
পুষ্পের দাবি, থানার ওসির কাছে একাধিকবার দেখা করার অনুমতি চেয়েছেন তিনি। আটক ব্যক্তিদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার অধিকার রয়েছে বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ শুধু জানিয়েছে, তাঁদের নিরাপদে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ফোনে কথা বলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের ফোন বাজেয়াপ্ত করা হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর।
কেন আটক সিজেপি নেতারা
মঙ্গলবার সকালে যন্তর মন্তরের তালাবন্ধ গেট টপকে ভিতরে ঢুকে পড়েন সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। জাতীয় পতাকা নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন বলে দাবি পুলিশের। পরে তাঁদের আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি বাতিলের এক দিনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। রাঙ্কার প্রকাশ করা ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, তালাবন্ধ গেট টপকে ভিতরে ঢুকছেন তাঁরা। পুলিশকর্মীরা বাধা দেওয়ার পর তাঁদের আটক করেন।
অন্যদিকে, ভিডিয়ো পোস্ট করে সৌরভ দাস দাবি করেছেন, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে স্বীকৃতি বাতিলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা জায়গাটি পুনরুদ্ধার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “সরকারের উদ্দেশে বার্তা—মানুষের যন্তর মন্তর থেকে দূরে থাকুন! জ্ঞানেশের সময় শেষ।”
সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলন ও প্রতিরোধকে কোনও নির্দেশিকা জারি করে নিষিদ্ধ করা যায় না। তবে আটক নেতাদের সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


