Bengal Liberty : “ভারত গণতন্ত্রের জননী। এই দেশে মানুষ স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলাখুলিভাবে বিতর্ক করেন এবং ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেন।” ব্লুমবার্গ ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে যখন বিরোধীদের আন্দোলনে উত্তাল রাজধানী দিল্লি, সেই সময় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং অর্থনীতির শক্ত ভিতের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদি বলেন, “ভারতে ১০০টিরও বেশি ভাষা, প্রায় ৮০ হাজার অনুমোদিত সংবাদপত্র ও প্রকাশনা এবং এক হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমেও ভারতের শক্তি ক্রমশ বাড়ছে। দেশে ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটিরও বেশি। মানুষের মধ্যে মতবিনিময় ও আলোচনার ক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
আরও খবর
সরকারের দায়িত্ব ও ক্ষমতার ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের হাতে ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল করে তোলা সরকারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। বরং, নাগরিকদের ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত। ক্ষমতার প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে, সেই ক্ষমতা কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর।”
ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ৭০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। করব্যবস্থা, দেউলিয়া আইন এবং শ্রমক্ষেত্রে একাধিক সংস্কারও করা হয়েছে।”
বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন টালমাটাল পরিস্থিতি, তখনও ভারত স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেন মোদি। বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “আমরা কারও ক্ষতির বিনিময়ে উন্নতি করি না। আমরা বিশ্বের সঙ্গে এবং বিশ্বের জন্য উন্নতি করি।” তাঁর দাবি, ডিজিটাল পরিকাঠামো, স্টার্টআপ এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনিশ্চয়তায় ভরা এই বিশ্বে ভারত নির্ভরযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, প্রযুক্তি, পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে ক্রমশ চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য অংশীদার এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।” সংস্কারের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, “আমাদের কাছে সংস্কার কোনও বাধ্যবাধকতা নয়, বরং সংস্কার আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।”


