Bengal Liberty : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র করতে চাইছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। আগামী ৩০ অক্টোবর জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ‘জনতার ইমপিটমেন্ট প্রক্রিয়া’ আয়োজনের কথা ঘোষণা করেছে বিরোধীরা। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধের খবর প্রকাশ্যে আসতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি থেকে শুরু করে প্রিয়ঙ্কা গান্ধি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদবরা প্রত্যেকেই জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এবার জনতার দরবারে বিরোধীরা তাঁদের সেই দাবি প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেনুগোপাল জানিয়েছেন, দিল্লির বুকে একটি প্রতীকী সংসদ ভবন তৈরি করে এই কর্মসূচি পালিত হবে। সেখানে বিরোধী দলের সাংসদ ও শরিক দলের নেতারা অংশ নেবেন। সেই মঞ্চ থেকে জনগণের মতামত তুলে ধরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি তোলা হবে।
এই কর্মসূচিতেও কংগ্রেসের প্রতিটি সাংসদকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে বিরোধী জোটের প্রতীকী বিচার প্রক্রিয়া করার নিন্দা করেছে শাসক দল বিজেপি। দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র এই আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চক্রান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী ময়দানের বাস্তবতাকে মেনে নিতে না পেরেই ইন্ডিয়া জোট ও রাহুল গান্ধি মানুষের মধ্যে বিভ্রান্ত ও মিথ্যা প্রচার ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।
ইতিমধ্যে ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ সংক্রান্ত আইনকেও চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। উল্লেখ্য, এই আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, পদে থাকাকালীন ও অবসর গ্রহণের পরও কমিশনারদের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। বিরোধীরা এই আইনি রক্ষাকবচকেই এবার পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ, এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলা আদালতে বিচারাধীন।
আরও খবর
এই পরিস্থিতিতে প্রতীকী সংসদ তৈরি করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে বিরোধীরা। এর আগে সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব এনেছিল বিরোধীরা। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসেনি। তবে এবারে পরিস্থিতি ভিন্ন। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের একাধিক বিষয়ে আপত্তি সামনে আসায় তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের দাবি জোরালো হতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের এই কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


