Bengal Liberty : ‘ গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, এই সরকার না এলে ছেলে মেয়েগুলো আর চাকরি পেত না।’ নিউটাউনে ওজেইন হোটেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সোমবার সকালে রাজ্যে পুলিশ নিয়োগ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে ১১ হাজার নিয়োগপ্রাপ্ত যুবক-যুবতীর হাতে সোমবারই নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে। সেই অনুষ্ঠানে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন না। তাঁর কথায়, ‘ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার ভাইবোনদের হাতে নিয়োগ পত্র তুলে দিতে চাই।’ পাশাপাশি, রাজ্যের পুলিশি পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা এবং থানাগুলিতে কর্মীর ঘাটতি মেটানোর বিষয়েও একাধিক বক্তব্য রাখেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ” পূর্ববর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকলে এই যুবক-যুবতীরা আর কোনও দিনই চাকরি পেতেন না। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসসি এবং ইডব্লিউএস সংক্রান্ত নিয়োগের জটিলতা ও সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপরই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।” তাঁর কথায়, নিয়োগপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাঁদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি রাজ্যে সরকারি চাকরির প্রয়োজন আছে।
পুলিশ নিয়োগের পাশাপাশি রাজ্যে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যার অনুপাতে ১০৫ জন পুলিশকর্মী রাখার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে আগামী দিনে পুলিশ বাহিনীর শক্তি বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
একইসঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন থানার পরিকাঠামো এবং কর্মীসংকট নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে একাধিক থানার কাজকর্ম মূলত সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে বলে দাবি করেন তিনি। থানাগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী নিয়োগ, পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে সরকার পদক্ষেপ করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আরও খবর
তৃণমূল সরকারের সমস্ত সরকারি চাকরির সঙ্গে দুর্নীতির ঘটনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, ” এই সরকার এমন কোনো কাজ করবে না যাতে মানুষকে কোর্টে যেতে হয়। ত্রুটি মুক্ত মেধা ভিত্তিক নিয়োগ করাই একমাত্র লক্ষ্য।”


