Bengal Liberty : সন্তান হারানোর যন্ত্রণা আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে অরণ্যর মা শিল্পী রায়কে। পূর্ব বর্ধমানে ভুয়ো চিকিৎসকের হাতে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় একের পর এক অভিযুক্তের গ্রেফতারিতে কিছুটা স্বস্তি পেলেও এখনও বিচার অধরা। শেখ সাইদুল ও মনোজ কুমার দে-র গ্রেফতারির পর পুলিশ প্রশাসন এবং বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অরণ্যর বাবা-মা। তবে তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে দালালচক্র-কেউ যেন আইনের নাগাল এড়াতে না পারে। সন্তান হারানোর কান্না বুকে নিয়েই শিল্পী রায়ের আর্তি, “আমার সন্তানকে যারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের ফাঁসি চাই।”
‘আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রত্যেকের ফাঁসি চাই’, কাঁদতে কাঁদতে আবেদন মায়ের
অভিযুক্তদের গ্রেফতারির পর পুলিশ প্রশাসন ও বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অরণ্যর মা শিল্পী রায়। তাঁর বক্তব্য, ‘ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সাইদুল এবং মনোজ কুমার দে-কে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ।’ তবে এতেই থেমে থাকতে নারাজ মৃত শিশুর পরিবার। শিল্পীর দাবি, এই ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। শিল্পী রায়ের অভিযোগ, নার্সিংহোমের বাকি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি শাবির আহমেদ, অভিজিৎ ঘোষ সহ প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি, দালাল কৌশিককেও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আবেদন, ‘বর্তমান সরকার, পুলিশ প্রশাসন এবং আইনের কাছে আমার অনুরোধ, আমার এই মায়ের কান্না যেন তাঁদের কাছে পৌঁছয়। আমার সন্তানকে যারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, যারা যারা এই ঘটনায় জড়িত, প্রত্যেকের যেন ফাঁসি হয়।’

দুবাই থেকে স্ত্রীকে আনতে এসে গ্রেফতার ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সাইদুল
এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সাইদুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর তিনি দুবাইয়ে পালিয়ে যান। সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশ সূত্রে খবর, স্ত্রীকে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন সাইদুল। সেই উদ্দেশ্যে তাঁর স্ত্রী মঙ্গলবার দিল্লিতে পৌঁছন। স্ত্রীকে নিতে দুবাই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে আসেন সাইদুল। কিন্তু বিমানবন্দরে নামতেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, দুবাইয়ে থাকাকালীনও স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন সাইদুল। বারবার মোবাইলের সিম বদল করেও তাঁর স্ত্রী যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই সূত্র ধরেই সাইদুলের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিসও জারি করা হয়েছিল।
আরও খবর
নবাবহাটের নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যু শিশুর
ঘটনার সূত্রপাত সেপ্টেম্বরের গোড়ায়। পূর্ব বর্ধমানের নবাবহাটের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ফাইমোসিসের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে মৃত্যু হয় শিশু অরণ্যর। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। সন্তানের মৃত্যুর পর বিচার চেয়ে সরব হন তার বাবা-মা। অভিযোগ, শিশুটির মা শিল্পী রায়কেও ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে নামে বর্ধমান থানার পুলিশ। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যদফতরও পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, অস্ত্রোপচার করা শেখ সাইদুল, ভুয়ো ডিগ্রি দেখিয়ে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর সূত্র ধরেই আরও কয়েকজন ভুয়ো চিকিৎসকের খোঁজ পাওয়া যায় বলে স্বাস্থ্যদফতর সূত্রে খবর।
ঘটনার পর থেকেই গা-ঢাকা দেন সাইদুল। বন্ধ করে দেওয়া হয় ‘লাইফ কেয়ার’ নার্সিংহোম। এই ঘটনায় নার্সিংহোমের দুই কর্ণধারকেও গ্রেফতার করা হয় বলে জানা যায়। তবে অরণ্যর পরিবারের দাবি, কয়েকজন অভিযুক্তের গ্রেফতারি যথেষ্ট নয়। এই ঘটনায় যাঁরা জড়িত রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে বাকি অভিযুক্তদেরও।


