Bengal Liberty: দিল্লিতে বিরোধী ঐক্যের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেসের রাজনৈতিক সমীকরণ একদিকে, অন্যদিকে বাংলায় তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা-নেত্রীদের কংগ্রেসে যোগদানের ছবি। জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিলেও, রাজ্যে তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা-নেত্রীদের দলে টেনে সংগঠন বাড়ানোর পথে হাঁটছে কংগ্রেস। বুধবার কলকাতায় এমনই ছবি সামনে এল। জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলেন কলকাতা পুরসভার দুই প্রাক্তন মেয়র পারিষদ ফারজানা চৌধুরী ও সঞ্চিতা মণ্ডল। পুজোর মরসুমের পরেই পুরভোটের সম্ভাবনাকে ঘিরে এই যোগদান রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কলকাতা পুরসভার পুরনো ৬৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে পুরপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন ফারজানা চৌধুরী। অন্যদিকে, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধি সঞ্চিতা মণ্ডল। ফারজানা একসময় সিপিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। এবার দুই প্রাক্তন মেয়র পারিষদই কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নিলেন। বুধবার হাজি মহম্মদ মহসিন স্কোয়ারে মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেসের দফতরে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
যোগদান কর্মসূচিতে শুভঙ্কর সরকার বলেন, “আরএসএস-বিজেপির স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর লাগাতার ও আপসহীন লড়াইয়ে আস্থা রেখে বিভিন্ন দল থেকে নেতা-কর্মীরা কংগ্রেসের সঙ্গে আসছেন। বহুত্ববাদের ঐতিহ্যকে রক্ষা করার লড়াই লড়ছে কংগ্রেস।”
আরও খবর
পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগও তুলেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, কলকাতার বহু মানুষ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। পুজোর পরেই তাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামার কথা জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। এই আন্দোলনে গণতন্ত্রপ্রিয় সমস্ত মানুষকে সামিল হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং ভোট চুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দলগুলি। এই ইস্যুতে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চে কংগ্রেস ও তৃণমূলকে একসঙ্গে দেখা গেলেও বাংলার রাজনীতিতে দুই দলের সম্পর্কের সমীকরণ ভিন্ন। একদিকে কেন্দ্রে বিরোধী ঐক্যের ছবি, অন্যদিকে রাজ্যে তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা-নেত্রীদের কংগ্রেসে যোগদান—পুরভোটের আগে এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।


