Bengal Liberty: ‘বাংলা জুড়ে চলা সমস্ত পুষ্পারাজের অবসান করব। কোনও অবৈধ করাতকল বাংলায় চলতে দেব না।’ অবৈধ কাঠ চেরাই কলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরের একাধিক জায়গায় অভিযান চালায় বনদফতর। এই অভিযানে মোট আটটি অবৈধ করাতকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে বনদফতর সূত্রে খবর।

বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ছ’টি এবং উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে দু’টি অবৈধ কাঠ চেরাই কলে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নর্দার্ন সার্কেলের সিসিএফ-সহ বনদফতরের আধিকারিকরা। মালদহের সংশ্লিষ্ট বনাধিকারিক এবং রায়গঞ্জের ডিএফও-র তত্ত্বাবধানেও চলে এই অভিযান। অবৈধভাবে কাঠ চেরাইয়ের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট করাতকলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযানে একাধিক যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে ভার্টিক্যাল ও হরাইজন্টাল ব্যান্ড স, ডিজেল ইঞ্জিন, মোটর, গ্রাইন্ডার, রাউন্ডার মেশিন, এয়ার কম্প্রেসার, স্টেবিলাইজার-সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। পাশাপাশি, প্রচুর পরিমাণে কাঠও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বনদফতর।
আরও খবর
বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই অভিযান শুধু মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলায় অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস এবং বেআইনিভাবে গাছ কাটার ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না।”
উল্লেখ্য, গতকালই কালচিনির একটি চা বাগানে অবৈধভাবে গাছ কাটার অভিযোগে চা বাগানের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়। তার পরেই উত্তরবঙ্গের দুই জেলায় অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে বনদফতরের এই অভিযান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে পালাবদলের পর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং বন ধ্বংস রুখতে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক তৎপরতা কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর।


