Bengal Liberty : দুর্গাপুজোর মরশুমে উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্মহীন শ্রমিকদের পরিবারপিছু অতিরিক্ত ৫০ কেজি চাল এবং ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দুর্গাপুজো থেকে ছটপুজো পর্যন্ত এই সুবিধা মিলবে। বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্যও সুখবর দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে মোট ৪৫ হাজার ১৮৫টি শূন্যপদে নিয়োগের প্রস্তাবে অর্থদফতরের অনুমোদন মিলেছে। দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য ৫ হাজার টাকা ও অতিরিক্ত চাল
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে উত্তরবঙ্গের ২১টি চা বাগান বন্ধ রয়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন মোট ১৯ হাজার ৫২৪ জন শ্রমিক। তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৬০ বছরের কম বয়সি যে শ্রমিকেরা বাগান বন্ধ থাকায় কর্মহীন, তাঁদের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার টাকা পাঠানো হবে। এই অর্থ দেবে শ্রম দফতর। পাশাপাশি পরিবারপিছু অতিরিক্ত ৫০ কেজি চাল দেওয়া হবে। বর্তমানে তাঁরা যে ৩৫ কেজি চাল পান, সেই সুবিধাও বহাল থাকবে। অর্থাৎ, উৎসবের মরশুমে নিয়মিত বরাদ্দের পাশাপাশি অতিরিক্ত চালও পাবেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকেরা বেতন পাচ্ছেন না, ফলে বোনাস পাওয়ারও কোনও সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ করেছে। দুর্গাপুজো থেকে ছটপুজো পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর থাকবে।

৪৫ হাজারের বেশি নিয়োগে অনুমোদন, পূর্বতন সরকারকে নিশানা
অন্যদিকে, চতুর্থীর দিন রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার বৈঠকে মোট ৪৫ হাজার ১৮৫টি শূন্যপদে নিয়োগের প্রস্তাবে অর্থদফতরের অনুমোদন মিলেছে। নিয়ম মেনে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানান তিনি। ঘোষণা অনুযায়ী, স্কুলশিক্ষা দফতরে ৩৩ হাজার ১৯৯টি এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে ৭ হাজার ১১৯টি পদে নিয়োগ হবে। কারিগরি শিক্ষা দফতরে ১ হাজার ৮৮৬ জন অফিসার ও ক্লার্ক নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশে ডেপুটি কমিশনার, সাব-ইনস্পেক্টর ও মহিলা কনস্টেবল-সহ বিভিন্ন পদে মোট ৯৪৬ জনকে নিয়োগ করা হবে।
আরও খবর
এ দিন পূর্বতন সরকারকেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার বাংলা সম্পর্কে অপপ্রচার করেছে এবং একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে চালু করেনি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগেই বাংলা ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। এ ছাড়া সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের ‘হিন্দুত্ববাদী’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ফের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উপসংহার দেখতে পাবেন।’ মমতাপন্থী তৃণমূলের মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বলেছিলাম রাজাবাজার থেকে এগোতে দেব না, দিইনি।’


