Humayun Kabir
Humayun Kabir

রাজনীতিতে বীতশ্রদ্ধ হুমায়ুন! মসজিদ নির্মাণ শেষ করেই দুবাই পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা, জানালেন নিজেই

Bengal Liberty : দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, বিতর্ক এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগের আবহে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এক সাক্ষাৎকারে নিজের মানসিক ক্লান্তি ও ক্ষোভের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ করেই গোল্ডেন ভিসা নিয়ে স্থায়ীভাবে দুবাই চলে যেতে চান। জীবনের শেষ দিনগুলি সমুদ্রের ধারে শান্তিতে কাটানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হুমায়ুন বলেন, ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে এসেছেন। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি হতাশ। তাঁর কথায়, “এত মুনাফেক, এত অবিচারকারী আর জুলুমকারীদের সঙ্গে আমার আর পোষাবে না। একসময় অনেক মনোবল নিয়ে ন্যায়ের পক্ষে লড়েছি। কিন্তু এখন আর পারছি না, বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।” দুবাইয়ে গিয়ে ঘুরে বেড়ানো, সমুদ্রের হাওয়ায় সময় কাটানো এবং সেখানেই শেষ জীবন অতিবাহিত করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন এই বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, গত দু’মাসে তাঁর অনুগামী ও ঘনিষ্ঠ ৬৪ জনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। পুরনো মামলা থেকে সাম্প্রতিক ঘটনা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তাঁর অনুগামীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

তবে দুবাই যাওয়ার আগে মসজিদ নির্মাণের কাজ শেষ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত ১০ কোটি টাকারও কম সাহায্য এসেছে। অথচ সংগৃহীত অর্থ নিয়ে ৫০০ কোটি বা ৭০০ কোটি টাকার যে দাবি করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। তাঁর বক্তব্য, জমির বন্দোবস্ত, নকশা ও খরচের হিসাব তৈরি হয়েছে এবং নির্মাণকাজে ইতিমধ্যেই দু’কোটির বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে। মসজিদ নির্মাণের দায়িত্ব সম্পূর্ণ করার পরেই রাজনীতি ও বাংলা ছাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চান হুমায়ুন। তবে তাঁর এই ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।