Bengal Liberty : ‘মা, একটু হরলিক্স দাও না, চেটে চেটে খাব।’ অঞ্জন চৌধুরী পরিচালিত ‘ছোটবউ’ ছবির এই সংলাপের জন্য জনপ্রিয় হয়েছিলেন মাস্টার বিট্টু। সেই শিশু অভিনেতা বিট্টুই আজকের অভিনেতা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। বুধবার আদালতের একটি রায়ের পর তাঁর হরলিক্স খাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে কটাক্ষ। উৎসবের মরসুমে নতুন করে আইনি সমস্যায় জড়িয়েছেন টলিউডের এই অভিনেতা। প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের বেঞ্চ এই আবেদন খারিজ করায় অভিনেতার গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে একটি ছবি তৈরির জন্য টাকা দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তা ফেরত না পাওয়াকে কেন্দ্র করেই এই মামলার সূত্রপাত।
ছবি তৈরির জন্য ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
অভিযোগকারী তরুণ দাস বালুরঘাটের বাসিন্দা। পেশায় তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজক। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সালে একটি ছবি তৈরির উদ্দেশ্যে সোহমের সংস্থাকে ১৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ছবিটি তৈরি হয়নি। ফেরত পাননি তাঁর দেওয়া টাকাও। প্রযোজকের আরও অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ করা হয়। মামলায় আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সোহম। কিন্তু তাঁর সেই আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়লেন অভিনেতা।
আগেও বিতর্কে জড়িয়েছে অভিনেতার নাম
উল্লেখ্য, সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুন মাসে নিউ টাউনের সাপুরজি এলাকার একটি রেস্তরাঁয় শুটিং চলাকালীন গোলমাল এবং রেস্তরাঁর মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন চণ্ডীপুরের তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে ঘিরেও যথেষ্ট চর্চা হয়েছিল। অন্যদিকে, বর্তমান আর্থিক প্রতারণার মামলায় প্রযোজক তরুণ দাসের অভিযোগের পাল্টা বক্তব্যও দিয়েছিলেন অভিনেতা। সব মিলিয়ে, একাধিক বিতর্কের আবহে ১৫ লক্ষ টাকার মামলায় হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তে সোহমের আইনি সমস্যা আরও বাড়ল। এ বার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।


