Bengal Liberty : রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে গড়বেতার সভা থেকে বাম ও তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, “এখন আন্টি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আর বেবির মধ্যে ভাব-ভালোবাসা হয়ে গিয়েছে।” একই সঙ্গে বাম ও তৃণমূলকে এক বন্ধনীতে রেখে তাঁর কটাক্ষ, “যাহাই তৃণমূল, তাহাই সিপিএম।” পাশাপাশি আসন্ন পুরভোট নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “পুরভোটে মমতার তৃণমূল আর তাদের বন্ধু লাল পার্টিকে মানুষ সাফ করে দেবে।”
‘যাহাই তৃণমূল, তাহাই সিপিএম’, মমতা-বাম শিবিরকে একযোগে আক্রমণ
গড়বেতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বাম ও তৃণমূলকে একযোগে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দুই দলের মধ্যে কার্যত কোনও পার্থক্য নেই। রাজনৈতিক স্বার্থেই তারা এখন কাছাকাছি এসেছে। গড়বেতার মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এখানকার মানুষ দ্বিতীয় স্বাধীনতার আনন্দ উপভোগ করছেন। নির্বাচনে তৃণমূলকে শূন্য করে দিয়েছে গড়বেতার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। এবার সেই সমস্ত ঘটনার জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। আমাদের সব হিসাব নেওয়ার সময় এসেছে।” একই সঙ্গে বাম আমলের অপরাধের ফাইলও খোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল ও সিপিএম মিলেমিশে একাকার হয়ে নৈরাজ্যের দিন ফিরিয়ে আনতে চায়।” তবে সেই চেষ্টা সফল হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
পুরভোটে তৃণমূল-বামকে শূন্য করার হুঁশিয়ারি
কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট নিয়েও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগামী পুরভোটে তৃণমূল এবং তাদের রাজনৈতিক বন্ধু বামেদের মানুষ ধুয়ে-মুছে সাফ করে দেবে। ফলতা, রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পুরভোটেও একই ফল হবে। মমতার তৃণমূল এবং তাদের বন্ধু লাল পার্টি কোনও জায়গা পাবে না।
আরও খবর
এদিন ভোটের সময় চিকিৎসক প্রণত টুডুর উপর হামলার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনায় প্রণত টুডুর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার এফআইআরের কপি তাঁকে পাঠানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মামলায় কতজন গ্রেফতার হয়েছেন এবং কতজন এখনও অধরা, তা নিজে খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে কড়া বার্তাও দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “যাঁরা গ্রেফতার হয়নি, তাঁদের চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাতে হবে।”


