Bengal Liberty:
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দল যেন কিছুতেই থামছে না। একদিকে কালীঘাট শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির—দুই পক্ষের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। এবার কুণাল ঘোষকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল নেতা রিজু দত্ত।

উস্কানি দিচ্ছেন কুনাল ঘোষ? (Kunal Vs Ritabrata TMC)
রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে রিজু দত্তের দাবি, তাঁদের শিবিরের একাধিক তৃণমূল নেতা এবং যুব তৃণমূল নেতাকে নাকি বারবার ফোন করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য, তাঁদের ফের কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরে নিয়ে আসা। শুধু ফোন করাই নয়, তাঁর অভিযোগ, ‘‘একটু দেখা করো, একটু হোটেলে এসো, একটু মলে এসো’’—এই ধরনের প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে। রিজুর দাবি, এই যোগাযোগের নেপথ্যে রয়েছেন কুণাল ঘোষ।
আরও খবর
রিজু দত্তের কথায়, ‘‘একদিকে সার্বজনীন মঞ্চ থেকে বলা হচ্ছে, যারা চলে গেছে তাদের আর নেওয়া হবে না। আর উল্টোদিকে যদি কাউকে দায়িত্ব দিয়ে ২৪x৭ ফোন করানো হয়—‘দিদির সঙ্গে কথা বলব, একটু দেখা করো, হোটেলে এসো, মলে এসো’—তাহলে এই দ্বিচারিতা কেন?’’
এখানেই থামেননি রিজু। তাঁর প্রশ্ন, সত্যিই যদি কেউ তৃণমূলে ফিরতে চান, তাহলে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হোক। কিন্তু একদিকে প্রকাশ্যে ঋতপ্রতোম শিবিরের নেতাদের ‘গদ্দার’, ‘বেইমান’ বলে আক্রমণ করা এবং অন্যদিকে তাঁদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ—এই দ্বৈত অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সারদা কাণ্ডের তদন্ত (Kunal Vs Ritabrata TMC)
কুণাল ঘোষের একটি পুরনো বক্তব্য টেনে এনেও পাল্টা আক্রমণ করেন রিজু দত্ত। সারদা-কাণ্ডের সময় কুণাল ঘোষের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, তখন কুণাল ঘোষই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের দাবি করেছিলেন। ফলে এখন অন্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের দাবি তোলার আগে পুরনো বক্তব্যেরও জবাব দেওয়া উচিত বলে কটাক্ষ রিজুর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে তৃণমূলের অন্দরের বিভাজনকে ঘিরে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তারই আরও একটি প্রকাশ্য নমুনা। ফলে কালীঘাট শিবির ও ঋতব্রত শিবিরের এই টানাপোড়েন আদতে শাসক দলের ভীত আরও শক্ত করছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

আরও পড়ুনঃ ২০০ কোটি ভিউয়ের লক্ষ্য! ২৬০০ ইনফ্লুয়েন্সারে ভর করে বিশ্বজুড়ে দুর্গাপুজোর প্রচার


