Bengal Liberty, ৬ জুন :
বদলে যাচ্ছে বঙ্গের রেল-মানচিত্র! রাজধানী দিল্লি থেকে সোজা উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি, দূরত্ব ঘুচবে মাত্র ৬ ঘণ্টার বুলেট-গতিতে (Ashwini Vaishnaw)। পূর্বতন সরকারের ‘অসহযোগিতা’র অন্ধকার কাটিয়ে রাজ্যে এবার উন্নয়নের নতুন সূর্যোদয়। আজ নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে রাজ্যবাসীর জন্য এই মেগা উপহারের কথা ঘোষণা করলেন খোদ কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)।

দিল্লি-শিলিগুড়ি বুলেট-গতি (Ashwini Vaishnaw)
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও আইনি জটের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যে রেল-উন্নয়নের এক্সপ্রেস ছুটতে চলেছে। আজ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রেলমন্ত্রী জানান, দিল্লি থেকে লখনউ, বেনারস ও পাটনা হয়ে সোজা শিলিগুড়িতে পৌঁছবে বুলেট ট্রেন। পাশাপাশি, আগামী পাঁচ বছরে বাংলার বুকে আরও ৬০টি নতুন ট্রেন চালুর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এই অভূতপূর্ব ঘোষণার পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি তীক্ষ্ণ ভাষায় অভিযোগ করেন, বিগত সরকার রেলের সম্প্রসারণ রুখতে এবং কলকাতাবাসীকে মেট্রো পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করতে হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দৌড়েছিল। রাজ্যবাসীকে পরিবর্তনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রেলমন্ত্রী বার্তা দেন, এতদিন আটকে থাকা সব কাজ এবার পূর্ণ উদ্যমে শুরু হতে চলেছে।

বিকাশের খতিয়ান ও মেট্রো-সম্প্রসারণ (Ashwini Vaishnaw)
বিকাশের নয়া দিশা দেখানোর পাশাপাশি মোদী সরকারের গত ১২ বছরের রেল-সাফল্যের পরিসংখ্যানও এদিন তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, ১৯৭২ সালে শুরু হওয়ার পর প্রথম ৪২ বছরে কলকাতায় মাত্র ২৮ কিলোমিটার মেট্রোপথ তৈরি হয়েছিল, সেখানে গত এক দশকেই সম্প্রসারিত হয়েছে ৪৫ কিলোমিটার লাইন। শুধু তাই নয়, অত্যাধুনিক বন্দে ভারত স্লিপার এবং অমৃত ভারত ট্রেনের মতো পরিষেবা গোটা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম চালু হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে রাজ্যে ৯টি বন্দে ভারত, ১টি বন্দে ভারত স্লিপার ও ১৩টি অমৃত ভারত ট্রেন দাপটের সঙ্গে দৌড়চ্ছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের ১০২টি স্টেশনের পরিকাঠামোগত ভোলবদল হতে চলেছে, যার মধ্যে ১০টির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।
আরও খবর
বিগত সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের সংঘাতের যে কালো মেঘ বাংলার রেল-উন্নয়নকে ঢেকে রেখেছিল, তা এবার সম্পূর্ণ কাটতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের বর্তমান সরকার ও কেন্দ্রের যুগলবন্দিতে আগামী দিনে বাংলার রেল পরিষেবা যে এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছতে চলেছে, নবান্নের বুক থেকে দেওয়া রেলমন্ত্রীর এই বুলেট-আশ্বাস অন্তত সেই চিত্রই স্পষ্ট করে দিল।



